তাজুল ইসলাম বলেন, যদি কেবল সংসদীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তবে ভবিষ্যতে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল যে এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছিল।

তিনি আরো বলেন, কেবল সংশোধনের পথে হাঁটলে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়; এটি কেবল কিছু বাহ্যিক বা কসমেটিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে, যা জাতির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করবে না।

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কার। গত ৫৪ বছরের রাষ্ট্রীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান খোঁজার জন্যই সংস্কারের দাবি ওঠে। সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যাতে সদস্যরা একই সাথে সংসদ সদস্য এবং গণপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকার একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে যা প্রচলিত সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে ছিল না, তাই সংবিধান সংস্কারের জন্য আলাদা আদেশের প্রয়োজন ছিল। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ইতোমধ্যে সংস্কারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে। এই গণভোটের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কারের একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি হয়েছে। জনগণ সচেতনভাবেই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং এটি মেনে নিতে সবাই বাধ্য।

তাজুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে সংশোধন প্রক্রিয়ার দিকে যেতে চাইছে। সংস্কার পরিষদ নামটির বিষয়ে তাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে। জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন কেবল একটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য হয়নি, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য হয়েছিল

এমএম