মিরপুরের রূপনগরে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারাত্বকভাবে জখম হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে শাহীন। কণ্ঠনালীতে দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি সেলাই। বুকের বামপাশে ও কাধের কাছেও সেলাই আছে কয়েকটি। মাত্র ৯ বছর বয়সের এই শিশু ব্যথায় ছটফট করছে বস্তি ঘরের বিছানায়। মুখে তার শুধুই বাঁচার আকুতি। দমে দমে মাকে ডাকছে সে। মুখে শুধু ‘মাগো... বাবাগো’ বলে কান্না।

বুধবার ঢাকার মিরপুরের রূপপুরে বেলুন বিক্রেতার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত শিশুদের একজন শাহীন।

এদিকে শাহীনের মা শাহীদা বেগম আহত ছেলেকে ভাল চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়ার টাকা ধার করার জন্য ব্যস্ত; কিন্তু এখানে তার আপনজনও কেউ নেই। কারো কাছে কোনো সহযোগিতাও পাচ্ছেন না তিনি।

শাহিদা বেগম জানান, তিনি স্থানীয় একটি গার্মেন্টস কারখানার ওয়াশিং সেকশনে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন কারখানায় ডিউটিতে। সন্ধ্যায় বাসায় এসে ছেলের অবস্থা দেখার পর স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে ক্ষতস্থানে সেলাই ও ব্যান্ডেজ করিয়ে আনেন। সাথে কিছু ওষুধও কিনে আনেন। আর্থিক সঙ্কটের কারণে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

তিনি বলেন, আমার ছেলে কম আহত বলে ঘটনার পরে কেউ হাসপাতালেও পাঠায়নি। আমি গার্মেন্টস থেকে এসে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছি।

তিনি জানান, শাহীনের বাবা আগে ইট ভাঙ্গার কাজ করতো। এখন সে নিজেই অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারেন না। শাহীনের বড় আরো এক ভাই। সেও টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারে না। চারজনের পুরো সংসার চলে শাহীদার একার উপার্জনেই।

এএইচ