চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার জোহরপুর সীমান্তে দুই বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)। গুলিতে আরও দুজন আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দশরশিয়া গ্রামের শফিকুলের ছেলে সুমন (২০) ও এনামুল সরকারের টোলার বুদ্ধুর ছেলে সেলিম (২১)। নিহত সেলিমের বাবা বুদ্ধুও ২০০৮ সালে পদ্মার জলসীমায় অনুপ্রবেশকারী বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি এ ধরনের ঘটনা শুনেছেন। খোঁজ নেওয়ার পর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ দুজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও আরেকজন ভারতীয় নাগরিক। তারা রাজশাহীতে অজ্ঞাত কোনো ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (০৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার জোহরপুর সাতরশিয়া সীমান্ত পথে কয়েকজন বাংলাদেশি রাখাল গরু আনতে ভারতের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে টিকলিচর নামক এলাকায় পৌঁছলে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার চাঁদনিচক বিএসএফ ফাঁড়ির সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি রাখাল নিহত হয়।
এদিকে, রাতেই বিএসএফ সদস্যরা জিরো লাইনের কাছাকাছি এলাকায় লাশগুলো ফেলে রেখে চলে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বজনরা লাশগুলো উদ্ধার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে সবার অগোচরে লাশগুলো পদ্মার চর এলাকায় পুঁতে ফেলা হয়।
এলাকাবাসী আরও জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কেউ মারা গেলে আইনি ঝামেলা এড়াতে এভাবেই গোপনে লাশ পদ্মার চরে পুঁতে ফেলা হয়।
বুধবার রাতেও নিহত দুই যুবকের মরদেহ পদ্মার চরের কোনো অজ্ঞাত স্থানে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
এদিকে সীমান্তে এই হতাহতের ঘটনা সম্পর্কে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা পাঁকা ইউনিয়ন প্রজন্মলীগের সভাপতি আল আমিন জুয়েল বলেন, গুলির ঘটনা ঘটে সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরেই। দুই বাংলাদেশি যুবক নিহতের খবর জানাজানি হয়। তবে আইনি ঝামেলা এড়াতে নিহতদের আত্মীয় স্বজনরা গোপনে লাশগুলো উদ্ধার করে দাফন করে ফেলেছেন।
এমবি





