পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী আলোয়াখোয়া মেলা। হিন্দু ধর্মের রাশ পূর্ণিমা তিথি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও আটোয়ারী মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন মাঠে বসেছে এই মেলা।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) রাশ ঘুরানোর মধ্যদিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন মেলার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ নাজমুল হক প্রধান।
এদিকে রাশ পূর্ণিমা তিথি উপলক্ষে আটোয়ারীর সীমান্তঘেষা বালিয়া এলাকায় নাগর নদীতে পূণ্যস্নান করতে সমবেত হয় হাজার হাজার পূণ্যার্থী। সেখানেও ২ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় প্রথম দিকে গরু-মহিষসহ বিভিন্ন পশু বিক্রি হয়। মেলায় এছাড়া সার্কাস, পুতুল নাচ, নাগোর দোলাসহ নানা চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে মাটির আসবাব, খেলনাসহ নানা রকমারী খাদ্য সামগ্রির দোকান।
আলোয়াখোয়া ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র সূত্রে ঐতিহ্যবাহী এই মেলার ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, এই এলাকায় বাচ্চাবাবু নামে এক জমিদার ছিলেন। ইংরেজ শাসনামলে বাচ্চা বাবু, তার পূর্বপুরুষ এবং বালিয়া বড় বাড়ির গণ্যমান্য লোকজন মিলে রাশ পূর্ণিমা তিথিতে প্রথম এই মেলার প্রচলন করেন। তখন মেলার স্থান ছিল ইলুয়া কাশিতে ভরপুর।
কথিত আছে ইলুয়া কাশি কেটে মেলা বসানো হয় বলে মেলার নাম রাখা হয়েছে আয়োয়াখোয়া। অর্থাৎ ইলুয়া থেকে আলোয়া এবং ইলুয়ার মোড়া থেকে খোয়া মিলে মেলার নাম হয় আলোয়াখোয়া মেলা। প্রতিবছর এভাবে ইলুয়া কেটে মেলা স্থাপন করা হতো।
ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পর আলোয়াখোয়া ইউনিয়নে এই মেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং তৎকালীন ঠাকুরগাও মহকুমার রুহিয়া নামক স্থানে আলোয়াখোয়া মেলার নিয়মে রাশ পূর্ণিমা তিথিতে রুহিয়া আজাদ মেলা নামে মেলার আয়োজন করা শুরু হয়।
বাংলা ১৩৭৪ সন থেকে ১৪০১ সাল পর্যন্ত রুহিয়া আজাদ মেলা এ অঞ্চলের একমাত্র মেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৪০২ সনে আটোয়ারী মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটি রুহিয়া আজাদ মেলা কমিটির কাছে মেলার আয়ের অংশ দাবি করলে উক্ত কমিটি তা প্রত্যাখান করে।
তারপর তৎকালিন আইনমন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজের একান্ত প্রচেষ্ঠায় আলোয়াখোয়া মেলা নামে প্রতিবছর আটোয়ারী মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আলোয়াখোয়া মেলা যেন বাঙ্গালীর গ্রামীন সংস্কৃতিকে আরো ভালো করে মনে করিয়ে দেয়।
এআর





