সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত সোমবার প্রস্তাবটি কমিশনে পাঠায় বিদ্যুৎ বিভাগ। যদিও নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করে থাকে বিতরণ কোম্পানিগুলো।

সে অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তাব চূড়ান্ত করে চলতি সপ্তাহেই বিইআরসিতে জমা দিতে পারে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে এবং গণশুনানির পর নতুন দর নির্ধারণ করা হবে। আগামী মাসের শুরুতেই নতুন দাম কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে চলতি এপ্রিলেই জ্বালানি খাতে একাধিক দফায় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অকটেন, পেট্রল, ডিজেল ও কেরোসিনের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক স্তর অনুযায়ী ভিন্ন হারে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে লাইফলাইন গ্রাহক—যারা মাসে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন—তাদের আপাতত এই মূল্যবৃদ্ধির বাইরে রাখার চিন্তা রয়েছে।

সরকারি তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫.৫০ টাকা বেশি। ফলে ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে। এলএনজি, কয়লা ও তেলের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধের চাপও ব্যয় বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হলেও এতে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮.৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

এস