কক্সবাজারের টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. রহিম উদ্দিন ওরফে রফিক (৩৭) ও মো. আজিজ (২৪) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। তারা দুজনেই মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বিজিবি সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. রহিম উদ্দিন ওরফে রফিক এবং রোববার ভোররাত ৪টার দিকে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. আজিজ নিহত হন।
নিহতরা হলেন- টেকনাফের হোয়াইক্যং কানজর পাড়ার মৃত আবদুল জলিলের ছেলে রহিম উদ্দিন ওরফে রফিক (৩৭) ও সদর ইউনিয়নের ডেইল পাড়া এলাকার ছালে আহমেদের ছেলে মো. আজিজ (২৩)।
টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, মিয়ানমার থেকে একটি ইয়াবার চালান নাফ নদী দিয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং উনছিপ্রাংয়ের মদিনার জোড়া নামক এলাকায় প্রবেশ করছে, এমন গোপন সংবাদ পেয়ে বিজিবির একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় নদীর তীরে একজনকে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়।
কিছুক্ষণ পরে একটি নৌকায় আরও কয়কজন আসে। এসময় বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ দিলে তারা বিজিবির ওপর গুলি চালায়। এ সময় বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এতে পাচারকারীরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রহিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি, ৩ রাউন্ড কার্তুজ ও ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ও দুটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, শনিবার রাতে একদল পুলিশ টেকনাফ পৌরসভার শাপলা চত্ত্বর এলাকা থেকে মাদক কারবারী মো. আজিজকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তিতে রোববার ভোরে তিনিসহ পুলিশের বিশেষ টিম টেকনাফ সদরের মহেষখালীয়া পাড়া নৌ ঘাট এলাকায় আটক ব্যক্তির আস্তানায় অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারে গেলে তার সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এসময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এই গোলাগুলিতে পুলিশ সদস্যরা আহত হয়।
তিনি বলেন, এসময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ আজিজকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচেছ বলে জানিয়েছেন।
ওসি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি, ৭ রাউন্ড কার্তুজ ও ৩ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন, উপ-পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদশক মো. মিশকাত ও কনেস্টবল রুমান দাশ।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শঙ্কর চন্দ্র দেবনাথ বলেন, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা দুজন গুলিবিদ্ধ ব্যাক্তিকে নিয়ে আসেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলির আঘাত রয়েছে এবং আহত পু্লিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত দুই বছরের বেশি সময়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৭৭ জন নিহত হয়েছেন। তার মধ্যে মোট ৪৯ জন রোহিঙ্গা নিহত হন। এর মধ্যে তিনজন নারী রয়েছে।
এএস





