রাজশাহীর চারঘাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে দুই কলেজশিক্ষক অপহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার অনুমপপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে একজন শিক্ষক সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এলেও আরেকজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।জানা যায়, শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ঈশ্বরদীর দারুশিয়া এলাকা থেকে ওই কলেজশিক্ষককে উদ্ধার করা হয়।বিষয়টি চারঘাট মডেল থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
অপহৃত দুই কলেজশিক্ষক হলেন-চারঘাটের রায়পুর গ্রামের আসমত আলীর ছেলে ডাকরা ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক বজলুর রহমান এবং আস্করপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শফিকুর রহমান উজ্জল।
ডাকরা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার সকালে কলেজের ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলযোগে চারঘাটে যাচ্ছিলেন শিক্ষক বজলুর রহমান ও শফিকুর রহমান।
তারা চারঘাট-আড়ানী সড়কের অনুপমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে থাকা কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের পথরোধ করে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ওই মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে চলে যান। এরপর থেকেই তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি মৌখিকভাবে চারঘাট মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই কলেজের শিক্ষক ও দৈনিক প্রথম আলোর রাজশাহী ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার সময় তিনি ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি দেখেন যে একটি কালো মাইক্রোবাসে ওই দুই শিক্ষককে তোলা হচ্ছে। আর তাদের মোটরসাইকেলটি সেখানেই রেখে দেয়া হচ্ছে।
এতে তার সন্দেহ হলে তিনি মাইক্রোবাসের কাছে যেতেই মাইক্রোবাসের একজন তাকে হাতের ইশারায় যেতে নিষেধ করে। এরপরই দুই শিক্ষককে মাইক্রোবাসে করে চারঘাটের দিকে নিয়ে চলে যায় তারা। মাইক্রোবাসের সামেন একটি মোটরসাইকেলও ছিল।
এ ঘটনার পর তিনি বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফকে বিষয়টি অবহিত করেন। অপহৃত কলেজ শিক্ষক বজলুর রহমানের ছোট ভাই মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আমার ভাই গ্রামের বাড়িতে থাকতেন না। তিনি সারদা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।অপহৃত আরেক কলেজশিক্ষক শফিকুর রহমান উজ্জ্বলের ছোট ভাই মিলন বলেন, তার ভাইকে ঠিক কী কারণে, বা কারা উঠিয়ে নিয়ে গেছেন, তা তিনি জানেন না।
রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) খালিদ হোসনে বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের আটক করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।
চারঘাট মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতেই কাজ শুরু করেছি। সম্ভাব্য সব জায়গায় তাদের খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
রাজশাহী র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম জানান, র্যাব এ ধরনের কোনো অভিযান ওই এলাকায় পরিচালনা করেননি। তাই বিষয়টি তিনি জানেন না।িএমআর





