সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করার জন্য সরকারের নিকট দাবী করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। পাশাপাশি সারাদেশের পেশাদার সাংবাদিকদের একটি তালিকা প্রণয়ন এবং সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবী করেছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএমএসএফ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, এনটিভি ষ্টাফ রিপোর্টার নির্ভিক সাংবাদিক আফজাল হোসেন’র ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে আহতের প্রতিবাদে দুঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে বক্তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।
বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এসএম আব্দুল মুগনী নীরো এতে সভাপতিত্ব করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর, আইন উপদেষ্টা এ্যাড. কাওসার হোসাইন, সহ-সভাপতি মনজুর হোসেন ঈসা, সহ-সভাপতি আবুল হোসেন তালুকদার, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, গাজীপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার দেলোয়ার জালালী ও পিনাকি দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোনিয়া সরকার, সাংবাদিক বিপুল শীল, সাংবাদিক নেতা জাহাঙ্গীর খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ রাখেন এবং বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বিচারের দাবীতে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনকালে বলেন, সারাদেশে যখন পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নসহ ১৪ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সারাদেশের অবহেলিত, নিপিড়ীত-নির্যাতিত সাংবাদিকদের নিয়ে মাঠে কাজ করছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম। ঠিক তখনি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, গত বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমল থেকে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়ে অদ্যবধি তা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বিএমএসএফ রংপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব নির্ভিক সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎসকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত মার্চ মাসে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সমকাল শরীয়তপুর প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম পাইলটকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া বিএমএসএফ’র রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান ও দুমকি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, সাভারের নির্ভিক সাংবাদিক রওশন আলীকে ২১ ফেব্রুয়ারী রাতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে এলোপাথারি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করাসহ মফস্বলে কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রাণী করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত: গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ইউপি নির্বাচন চলাকালে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে যখন শান্তিপূর্নভাবে ভোটগ্রহন চলছিল, ঠিক তখনি বিনা উস্কানিতে জুলহাস নামের এক পুলিশের কনেষ্টবল বিএমএসএফ’র ভোলা জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাংবাদিক আফজাল হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে।
বাম পায়ের হাটুর নীচে গুলিবিদ্ধ হয়ে আফজাল হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তার সহকর্মীরা উদ্বার করে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। নেতৃবৃন্দ আফজাল হোসেন’র উন্নত চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এআই





