খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম (রঙ মিয়া) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে নিহতের স্ত্রী শরিফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহাদাত হোসেন টিটো।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম (রঙ মিয়া) ৪নং ওয়ার্ডের আদর্শগ্রামের চাঁন মিয়া সওদাগরের ছেলে এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সিনিযর সহ-সভাপতি। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশ করবে মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপি।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বাদশা মিয়া এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শামছুল হক সমর্থিত নেতাকর্মীদের দায়ী করে বলেন, উপজেলা কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকের হয়ে কাজ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ চৌধুরী এক বিবৃতিতে কৃষক দলের নেতা নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকর্মীদের দায়ী করে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. শামসুল হক অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ঘোলাটে করতেই বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন রাতে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল হাসেম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, নজরুল ইসলামের মুখে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেটা তদন্তের পর বলা যাবে।
এদিকে ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এআই





