পটুয়াখালী-৩ আসন গলাচিপা-দশমিনা উপজেলার সংসদ সদস্য আলহাজ আ খ ম জাহাঙ্গির হোসেনের ভাই খালিদুল ইসলাম স্বপনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জনৈক লীজা বেগম নামে এক নারী পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মঙ্গলবার (১২ মে-১৫) মামলাটি দায়ের করলে ওই আদালতের বিচার জেলা ও দায়রা জজ বিমল চন্দ্র শীল র্দীঘ শুনানী শেষে গলাচিপা থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, একই উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের দিনমজুর মো. সিরাজুল সরকারের মেয়ে মোসা. লিজা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী যৌতুকের লোভে মাঝে মাঝে তাকে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিশ-বৈঠক হলে আসামী মো. খালিদুল ইসলাম স্বপন উভয় পক্ষের মনোনীত হয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য একধিকবার দিন ধার্য্য করে থাকে। পরে স্বপনের পরামর্শক্রমে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বামীর সঙ্গে লিজার তালাক হয়।

ঘটনার পর থেকে লিজা তার পিত্রালয়ে বসবাস করতেন। স্বপন মাঝে মাঝেই তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (০১৭১২৫০০৮৩৮) থেকে লিজার ব্যবহৃত নম্বরে কল দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্ররোচিত করতে থাকে। তার প্রস্তাবে লিজা রাজি না হলে বিভিন্ন সময়ে লিজার বাড়িতে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। এ প্রস্তাবে লিজা ও তার পরিবার রাজি না হলে পটুয়াখালীর শহরের লিজার নামে বাড়ি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন স্বপন।

এরই ধারাবাহিকতায় নানা প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লিজাকে পটুয়াখালীতে নিয়ে আসেন এবং হোটেল পার্ক- এ লিজা ও স্বপন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রাত্রী যাপন করেন। ওই রাতে স্বপন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে, ফুসলিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করেন। পরে তাকে তার পিত্রালয়ে রেখে আসেন।

এরপর পুনরায় তাকে বিয়ে এবং বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ১২ মার্চ হোটেল পার্কে নিয়ে পূর্বের মতই আচরণ করেন। গত ৩ মে বিকালে লিজাকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিতে আসে স্বপন। সে সময় লিজা তাকে রেজিস্ট্রি কাবিন করে দিতে বললে তিনি তাতে দ্বীমত পোষণ করেন। সে সময় তিনি লিজার কোনো খোঁজ খবর নেবেন না বলে স্বাক্ষিদের সামনে হুমকি দেন। এ ছাড়া লিজা কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামছাড়া করার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার পর লিজা আইনগত সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে মামলা করেন বলে জানান।

কেএইচ