সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে পুনর্বহাল-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত রাখতে সরকারপক্ষ আবেদন করতে পারে আজ রবিবার। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে এই আবেদন করা হতে পারে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু শনিবার বলেন, আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। রবিবার এ আবেদন দাখিল করা হতে পারে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গত ৫ মে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন, রবিবার ওই রায় স্থগিতের আবেদন করা হবে।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গত ৫ মে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ, অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার আর প্রয়োজন নেই। হাইকোর্ট রায়ের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। ফলে আপনাআপনি আপিল হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষ এ রায় স্থগিত করার জন্য আবেদন দাখিল করবে।
১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে।
বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা পুনরায় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। এরপর তা ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। এ অবস্থায় সংবিধানের ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সে বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবী।
এমআর





