স্কুলছাত্রীকে গনধর্ষণের মামলায় এক নারীসহ ৫জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডর রায় প্রদান করেছেন গাজিপুর আদালত।মামলার নথি থেকে জানাযায়, ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিথী আক্তার ইভা তার মামাত বোনের বিয়েতে বান্ধবীকে নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি বিথী সহযোগী আসামি নুরুজ্জামান, হারুন অর রশিদ, শাহজাহান ও মনিরুজ্জামানের হাতে তুলে দেয়।
তারপর চারদিন এসএম নুরুজ্জামান গেদার বাড়িতে ভিকটিমকে আটকে রেখে ৪ দিন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে বিথী আক্তার ইভা অসুস্থ ভিকটিমকে তার বাড়ির কাছে রেখে পালিয়ে যায় এবং ঘটনা প্রকাশ করলে ছুরি দিয়ে হত্যা করবে বলে তাকে ভয় দেখায়।
এতে ভিকটিম আতঙ্কিত হয়ে ঘটনাটি লুকানোর চেষ্টা করে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে ভিকটিম বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। ডাক্তারি পরীক্ষা ও ভিকটিমের স্বীকারোক্তিতে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মজিবুর রহমান সহায়তাকারী বিথীসহ চার ধর্ষকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাটি টাঙ্গাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল। পরে এ মামলায় বিচারক বিব্রতবোধ করায় হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর মামলাটি গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়।
মামলায় ১৮জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার আলোচিত মামলাটির রায় প্রদান করেন। গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ জাহেদ মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার মোগলপাড়া গ্রামের আঃ রশিদের মেয়ে বিথী আক্তার ওরফে ইভা (২২), কালিহাতি থানার আউশনারা বোকরেবাইদ গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে এসএম নূরুজ্জামান ওরফে গেদা (৪৫), একই থানার কুটিবাড়ি গ্রামের মোঃ গাজীবুর রহমানের ছেলে মোঃ হারুন অর রশীদ ওরফে হারুন (৩১), একই থানার জটাবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ শাহজাহান আলী ওরফে শাহজাহান ও টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার বোলালী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত হাজী ওমেদ আলী সরকারের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে মনি।
রায়ে আসামিদের ১লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
নাজিব





