ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় কয়েকটি উপজেলায় রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিকরা ভোটার হয়েছে বলে গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অভিযোগ পেয়েছে।
আর এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসি রোববার দেশের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে 'রেড এলার্ট' জারি করেছে। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের নেতৃত্বে একটি পর্যবেক্ষক দল তৈরি করা হয়েছে। যা চলতি সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের আসামের বাসিন্দা সুনিল কান্ত রায়, দ্বীপরাজ সরকার, পারুল ভৌমিক, অসীম ভৌমিক পিরোজপুরের নেছারাবাদ (সরুপকাঠি) উপজেলায় ভোটার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কলকাতার এক বাসিন্দা অনিল হালদার সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ভোটার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় শিশির দাস নামে এক ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হয়েছেন বলে গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেন ওই উপজেলার বাসিন্দা সুশান্ত দাস।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারতের ত্রিপুরায় বাসিন্দা শিশির দাস মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হয়েছেন। এ বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়।
এছাড়া কুমিল্লা সদর উপজেলায়, চট্টগ্রাম সদর,মিরসরাই ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় রোহিঙ্গারা ভোটার হয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ পাওয়ার পর দেশের সীমান্তবর্তী সব উপজেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের নেতৃত্বে একটি পর্যবেক্ষক দল তৈরি করা হয়েছে,যা চলতি সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করবে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিকরা অবৈধভাবে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ইসি এসব ভুয়া ভোটার শনাক্ত করে বাদ দেয়। কিন্তু জড়িতদের কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। এ কারণে প্রতিবছরই রোহিঙ্গা ও বিদেশী নাগরিকরা ভোটার হচ্ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন,রোহিঙ্গাসহ অন্য দেশের নাগরিকরা ভোটার হলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণে প্রতিবছরই রোহিঙ্গা ও বিদেশী নাগরিকরা ভোটার হচ্ছে।
অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কেউ অভিযোগ করলেও তা সঠিকভাবে যাচাই করার বিধান রয়েছে।
তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় যাতে কোনো ভারতীয় বা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ভোটার হতে না পারে সেজন্য আবারও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে শুরু হওয়া হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রথম পর্যায়ে ১৮১টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১৩টি উপজেলা/থানায় নতুন ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
আর গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের মোট ১২০ টি উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে।
বর্তমানে ভোটার ৯কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৪১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার চার কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ জন এবং নারী ভোটার চার কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২১ জন।
বিগত ২০১১ সালে মৌলভীবাজারের এক গ্রামে ১০ ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোটার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয় ইসি। কিন্তু এ ঘটনায় কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি। এছাড়া ছয় বছরে রোহিঙ্গা সন্দেহে প্রায় ৬৭ হাজার ভোটার নিবন্ধন ফরমও বাতিল করা হয়েছে।
ঢাকা, এএম, ২১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





