১৫ জুন আন্তর্জাতিক প্রবীণ সচেতনতা প্রতিরোধ দিবস। এ দিবসটি জাতিসংঘের আওতায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক উদ্যোগে সর্বপ্রথম ২০০৬ সাল থেকে ১৫ জুন বিশ্বব্যাপি পালিত হচ্ছে আসছে।
এই দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হলো বিশব্যাপি প্রবীণ নির্যাতন ও অবহেলা সম্পর্কে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, জনসংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে জনগণকে সচেতন করা।
এই দিবসের মাধ্যমে প্রবীণদের শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করা। প্রবীণদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলো বলছে, বাংলাদেশে প্রবীণদের একটি বড় অংশ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সচেতনতারও অভাব রয়েছে। প্রবীণদের দেখভালের জন্য বাংলাদেশে একটি আইন থাকলেও অনেকেই সে সম্পর্কেও ঠিকভাবে জানেন না।
প্রবীণদের অধিকার নিয়ে কাজ করে হেল্প এজ ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ডিরেক্টর, নির্ঝরিণী হাসান বলছিলেন, দেশে বিভিন্নভাবে প্রবীণ নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, "অবহেলা তো আছেই, সেইসাথে শারীরিক ও মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন অনেক প্রবীণ। এর মধ্যে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বেশি"।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের দ্বারাই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। অনেকের আশ্রয় হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে।
মিজ হাসান জানান, তাদের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের শহরে বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্তদের মধ্যে ৮৮% বলেছেন যে তারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
এর কারণ হিসেবে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার ব্যবস্থার আধিপত্যকে দায়ী করেন প্রবীণদের অধিকার নিয়ে কর্মরত মিজ হাসান।আগে নানা-নানী, দাদা-দাদী ছিলেন পরিবারের প্রধান। কিন্তু একক পরিবারে তারা অনেকটাই উপেক্ষিত।
“একজন প্রবীণ মানুষ সারাজীবন পরিবারের প্রধান ছিলেন, হঠাৎ আবিষ্কার কারণে পরিবারে তার কোনও সম্মান নেই” বলেন নির্ঝরিণী হাসান।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অর্থনৈতিক অবস্থা। বর্তমান প্রতিযোগিতার যুগের কারণে অনেকেই মনে করেন, প্রবীণদের আয়-রোজগারের ক্ষমতা নেই। তারা পরিবারের বোঝা হয়ে ওঠেন অনেকে কাছে।
যদিও প্রবীণদের অধিকারের বিষয়ে ২০১৩ সালে একটি নীতির অনুমোদন দেয়া হয়।
এছাড়া পিতা-মাতা ভরণ পোষণ আইনও হয় ২০১৩ সালেই। মিজ হাসান বলেন, "ছেলে-মেয়ের ওপর বাধ্য-বাধকতা থাকলেও অনেকেই সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনের সাহায্য নিতে চান না। এটা এই আইনের দুর্বলতা"।
এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়ে কিছু থাকা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
তবে এই আইন বা নীতি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।
আইন অনুযায়ী, কোন সন্তান যদি তার পিতা-মাতাকে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান না করলে, আইনের ৫ নং ধারা অনুযায়ী উক্ত অপরাধের জন্য কমপক্ষে এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উক্ত অর্থদন্ড অনাদায়ে তিন মাস কারাদন্ডে দন্ডিত হবে। সরকারিভাবে এ সম্পর্কে জানানোর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন ।





