১৮ বছর পার হলেও ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীতে সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৯৬ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর, তার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে এসে উদয়পুর ঘাটে এ সেতুটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার নামও তিনি দিয়েছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান সেতু।

মতিয়ার রহমানের নিজ গ্রাম উদয়পুরে নবগঙ্গা নদী তীরের জনসভায়,এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে এ ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় জনদুর্ভোগ লাঘবে আশায় বুক বেধেছিলেন এলাকাবাসীও।

সে সময় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে পত্রও দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। কিন্তু তারপর আর কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকার মানুষকে এখনো কলার ভেলা আর বাঁশের সাঁকোতেই নবগঙ্গা পার হতে হয়।

বারইখালী গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, উদয়পুর আর বারইখালী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে নবগঙ্গা। উদয়পুর গ্রামের শেষ প্রান্তে নদীটির অবস্থান। এই গ্রামটি ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় অবস্থিত। ঝিনাইদহ শহর থেকে পবহাটির মধ্যদিয়ে উদয়পুর, বারইখালী, ইস্তেফাপুর, বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম হয়ে মধুপুরে মিশে গেছে একটি রাস্তা। মধুপুর ছাড়া অন্য ৪টি গ্রামের মানুষ উদয়পুরের রাস্তাটি ব্যবহার করে ঝিনাইদহ শহরে যাতায়াত করেন। যে কারনে তারা দীর্ঘদিন ধরে উদয়পুর ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

উদয়পুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, তাদের গ্রামের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান। তিনি আওয়ামীলীগের প্রবীণ নেতা। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালেই ১৯৯৬ সালের ১৫ জুলাই মারা যান তিনি। তার দাফনে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এরপর ওই বছরের ৭ আগষ্ট মতিয়ার রহমানের কবর জিয়ারতে আসেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মোহাম্মদ আলী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে তারা নবগঙ্গার পাড়ে একটি মঞ্চ করে জনসভার আয়োজন করেন। পাশ্ববর্তী কয়েক গ্রামের মানুষ সেখানে সমবেত হন। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটাই দাবি জানান- তা হল, এই সেতু। গ্রামের মানুষের এই দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে প্রধানমন্ত্রীও দ্রুত সেতু নির্মাণে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের সঙ্গে একমত হয়ে তিনি এর নামকরণও করেন মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমানের নামে।

কিন্তু ১৮ বছরেও সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায়, হতাশ ও ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জে.এম রশিদুল আলম জানান, এলাকার মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই, আমরা আশা করবো দ্রুততার সঙ্গে এ সেতুটি নির্মাণ করা হবে। নির্মিত সেতুটি মতিয়ার রহমানের একটি স্মৃতিও হয়ে থাকবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রকিব-উল-আলম জানান, পেছনের ঘটনাগুলো তার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোজ নিয়ে তিনি পদক্ষেপ নেবেন।

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই