ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩.৩০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নীচতলার নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি মো. রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল শ্রমিক-কর্মচারীরাও। দেশটা স্বাধীন করার ক্ষেত্রে সকল শ্রেণী পেশার পাশাপাশি শ্রমিকদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে তাদের যে সকল সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন তার নামমাত্র পরিমানই শ্রমিকরা ভোগ করছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতো তাহলে আমাদের দেশ আরো উন্নতির দিকে যেতো। কিন্তু রাজনীতির আকাশে বারবার কালো ধোয়ায় ভরে যায়। দেশের শ্রমজীবী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সরকার শ্রমবান্ধব। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তিনি আরো বলেন, এবার আমরা মুজিব শতবর্ষ পালন করতে যাচ্ছি। ৭৫ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি দেশটাকে নানান ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের হাল ধরার পর দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো। এটাই হোক মুজিববর্ষের অঙ্গিকার।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আজীবন ধরে রাজনীতি করে আসছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশটাকে আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছেন। যা ইতিমধ্যেই বিশে^র স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই সরকারের আমলেই নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৮৫% শ্রমিক-কর্মচারী তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তিনি শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার জন্য কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদর নির্মাণ শিল্পের দিকে কোন নজরদারি নেই বললেই চলে। যার কারণে প্রতিনিয়ত কর্মস্থলে নির্মাণ শ্রমিকরা দুর্ঘটনায় আহত-নিহত হচ্ছেন। নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য পেনশন স্কীম, রেশনিং ব্যবস্থা, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সরকারি প্রতিটি মেডিকেলে আলাদা ইউনিট স্থাপন করে দেশের নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এএস