গাইবান্ধার  ঘটনাটি ২০১৫ সালের মে মাসের।স্থানীয় শিমুলবাড়ি হামিদুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সে।ডাক্তার হওয়া স্বপ্ন দু চোখে।

শারমিন আক্তার আরজুর।গাইবান্ধা জেলার সাঘাটার কৈচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফের সন্তান। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়।শারমিনের বড় বোনের বিয়ে হয় এক ঔষুধ বিক্রেতার সাথে।দুলাভাইয়ের কু-দৃষ্টি পড়ে শারমিন।বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাবের পাশাপাশি বিয়েরও প্রস্তাব দেয়।প্রস্তাবে রাজি না হলে পাষণ্ড দুলাভাই সাইফুলের ছোড়া এসিডে ঝলসে যায় শারিমিনের মুখমণ্ডল।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এসিডে ঝলসানো শারমিনকে উন্নত চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই বড় বোনের উপর চাপানো হয়েছে দোষ। হত্যার হুমকির পাশাপাশি মামলা না করার জন্য বড় বোনকে তালাক দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু মামলার বিষয়ে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বড় বোন মাহবুবা আফরিনের সংসারও ভেঙে যায়।

বগুড়া , রংপুরে চিকিৎসা গ্রহনের পর ঢাকা সিআরপিতে আসেন শারমিন। মুখে ও গলায় ইতোমধ্যে তিন বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে তার। কিন্তু তার মুখমণ্ডল আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। আগের অবস্থায় ফিরে আসতে তার মুখে কসমেটিক সার্জারি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন তা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই শারমিনের পরিবারের। মেয়ের চিকিৎসা করাতে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বাবা আব্দুর রউফ। সহৃদয় বিত্তবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে হয়তো মেধাবী কিশোরী শারমিন ফিরে পেতে পারে তার স্বাভাবিক জীবন।

এই রকম শারমিন বাংলাদেশে কতজন আছেন তার সঠিক তথ্য না থাকলেও প্র্রতিদিন যে নতুন নতুন শারমিনের জন্ম আমাদের সমাজ দেয় তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।চিকিৎসা ও বিচারহীন কাটে তাদের জিবন । আমরা শারমিনদের সুন্দর জীবন কি দিতে পারি না?

রুবেল/নাজিব