কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদলে অবস্থিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রোববার বিকাল ৩ টায় আওয়ামীলীগের দু’জন প্রভাবশালী পরিবারের নেতার সমর্থনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ সমাবেশ আহ্বানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ দু’গ্রুপের  মধ্যে দফায়-দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা চলে।

এ সময় মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আশপাশের লোকজনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুর ১টার দিকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সদর উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক মাইকিং করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছিল না।

এ সময় দু’পক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও দফায়-দফায় ধস্তা-ধস্তির ঘটনা ঘটছে। এমনকি এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে রামদা নিয়ে তেড়ে আসে সন্ত্রাসীরা।

ঘটনাস্থলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাসউদ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে উপস্থিত থেকে বিকাল ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একাংশ শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজের সামনে রাষ্ট্রপতির কনিষ্ঠপুত্র রাসেল আহমেদ তুহিনের সমর্থনে রোববার বিকাল ৩ টায় সমাবেশ আহ্বান করে।

কিন্তু; যশোদল ইউনিয়ন ছাত্রলীগও একই সময় একই স্থানে জনপ্রশাসন মন্ত্রীর চাচাতো ভাই বিসিবির পরিচালক ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুর সমর্থনে পাল্টা সমাবেশ আহ্বান করলে দু’পক্ষের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চড়ম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শনিবার রাত থেকে সভাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রোববার সকাল থেকে দু’পক্ষের উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে মিছিল করে সমাবেশস্থলে আসতে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে দফায়-দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দু’গ্রুপের নেতা-কর্মীরা।

এক পর্যায়ে দুপুর ২টার দিকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় দুই সংবাদকর্মীসহ অন্তত: ৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

তানভীর আহমেদ তনয়/এসএম