চট্টগ্রামে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আব্দুর রহিম নামে (৩৮) এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক।

বিচারক মো. রেজাউল করিম বুধবার দুপুরে এ আদেশ দেন। আসামি আব্দুর রহিম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম সাধনপুর গ্রামের গোলাম সোবহানের ছেলে। বর্তমানে তিনি পলাতক আছেন।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জেসমিন আক্তার বলেন, আসামি আব্দুর রহিম নূরুন্নাহার বেগমকে ফুসলিয়ে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করেন। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে হত্যা করেন। এ অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ বিধান আইন ১৯৯৫ এর ৬(২) ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগপত্রে ১৪ সাক্ষীর মধ্যে নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার আদালত এ রায় দেন।
আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, নিহত গৃহবধূ নূরুন্নাহার বেগম একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল আজিজের স্ত্রী। নূরুন্নাহার বেগম ও আব্দুল আজিজের বিয়ের সময় নূরুন্নাহারের উকিল বাবা ছিলেন আসামি আব্দুর রহিমের বাবা গোলাম সোবহান। এর সুবাদে নূরুন্নাহার ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আব্দুর রহিমের ভাল সম্পর্ক ছিল।

১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ আব্দুর রহিম নূরুন্নাহারকে পশ্চিম সাধনপুর গ্রামে তার বাবার বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে বাঁশখালীর চাপাছড়ি গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে জঙ্গলের মধ্যে তাকে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তী সময়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করে। ২৫ মার্চ সকালে পুলিশ ওই জঙ্গল থেকে নূরুন্নাহারের মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় নূরুন্নাহারের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

১৯৯৯ সালের ৪ নভেম্বর পুলিশ ওই মামলায় আসামি আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। ২০০১ সালের ২৫ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

এমএইচ