প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে চাঁদপুরের জন্যে দেয়া উপহার ‘নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি’ অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে।
এটিও কি পূর্বেরটির ন্যায় ভাগ্যবরণ করতে হয় কি না সেটিই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ৮/৯ মাস আগে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্যে দেয়া হয় সদর উপজেলার যেহেতু পৃথক কোনো হাসপাতাল নেই, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটিই যেহেতু সদর উপজেলাসহ পুরো জেলার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে, তাই এ হাসপাতালের জন্যেই এটি প্রযোজ্য।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেতরে ময়লা-আবর্জনা জমে এটি এখন নষ্ট হওয়ার পথে। ‘ব্যবহারের সুযোগ কম’−এই কথা বলে কর্তৃপক্ষ এখন এটি অন্য কোথাও হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন।
চাঁদপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির অনুরোধে উপহার হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলার রাজরাজেশ্বর, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলের মানুষের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এ নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি দেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর ২২ অক্টোবর এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করা হয় ডা. দীপু মনি ও চাঁদপুরের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে। পরে সেটি চাঁদপুরে আনা হলে আনন্দের কমতি ছিল না এখানকার মানুষের মধ্যে।
কিন্তু চালক নিয়োগ না হওয়ায় এবং দাফতরিক জটিলতায় গত আট মাস ধরে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে আছে শহরের মুখার্জিঘাট এলাকার ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে।
নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালনায় অভিজ্ঞতা আছে এমন চালক ছাড়া অন্যরা এটি চালাতে পারবে না। এ দুটি সমস্যার কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম মাহবুবুর রহমান এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন এ তথ্য জানান।
চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলবের চরাঞ্চলের রোগীদের মেঘনা পাড়ি দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য আনা-নেওয়ার কাজে এ অ্যাম্বুলেন্সটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ধারণা থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন।
এরপর এটি ব্যবহারে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন করে শুরু হয় তোড়জোড়। সর্বশেষ গত মে মাসে চাঁদপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালকে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে একটি চিঠি দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু এ অবস্থায় তারাও এটি ব্যবহার করতে ব্যর্থ হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি আমাদের ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না এ সম্পর্কিত কোনও চিঠি এখনও আমরা হাতে পাইনি।
তবে এটি যদি আমাদের ব্যবহারের জন্য দেওয়াও হয়, তাতেও সমস্যা থেকে যাবে। চালক নিয়োগ না করা হলে এবং জ্বালানি সরবরাহ না থাকলে এটি আমরাও ব্যবহার করতে পারবো না। সড়কের গাড়িচালক দিয়ে তো আর নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালানো যাবে না। সেক্ষেত্রে এটি পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাবে।’
নৌ অ্যাম্বুলেন্সটির অকেজো পড়ে থাকার বিষয়ে চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। চালক ও জ্বালানির ব্যবস্থা না হলে এটার কোনও কাজ নেই।
তাই চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির সঙ্গে পরামর্শ করেই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের আশা তারা এটা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারবে।’
এএস





