হোমরা-চোমরা ঘরক কতজনাক কনু কেউই মোর কথা শোনেয় না। এই দুঃখে কাকো আর কিছুই কও না। দুঃখু হয় মোর মোতো সহায়-সম্বলহীন অসহায় বয়স্ক-বিধবা ঠাঁইহীনরা না পাইলে শেখের বেটির কম্বল গুলাকেটা গাওত দিচ্ছে। এ রকম নানা আর্তনাদ-বিলাপ করে এই কথা গুলো বলছিল ৭০ বছর বয়সি বিধবা মফেলা বেওয়া। দাম্পত্য জীবনে প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী সমেস উদ্দিন মারা যায়। তখন তার কোলে শিশু সন্তান মোকছেদ। কোলের শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তায় মফেলা আর কোনবিয়ে-সাধির চিন্তা করেননি।
সই থেকেই মফেলা ভবঘুরে।বাউল মনা। মনের খেয়ালিপনায় ঘুরে বেরিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পীর-দরবেশ-এর মাজরে-মাজারে।
ছেলে মোকছেদের ঘরে তার ১ নাতনি ২ নাতি। মফেলা তার স্বামীর ভিটা ছেড়ে সেই থেকেই বসবাস করে আসছেন পৈত্রিক সূত্রে পাওয় মাত্র দেড় শতাংশজমির ভিটেমাটিতে। এখানেই তিঁলে-তিঁলে গড়ে তুলেছেন মাথা গোঁজার শেষ ঠিকানা ছোট্র একটি টিনের কুঠির। একমাত্র ছেলে রাজধানী ঢাকায় রিক্সা চালান। নাতি-নাতনি, ছেলে- ছেলের বউসহ নিজে গাদাগাদি করে থাকেন একই ঘরে। দুঃখ-কষ্ট যেন মফেলার পিছু ছাড়ছে না বলে নানা আর্তনাদ করেন।
রোববার (১৫ জানুয়ারি)রাত ৯টা নাগাদ শীতবস্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়ে উদাসমনে মফেলা বেওয়া জীবনের সব চাওয়া-পাওয়ার হিসাব কষছিলেন। এ সময় সদরের গাইবান্ধা বাসষ্টান্ড সংলগ্ন কালীবাড়ী বাজার রোডে হান্নানের চায়ের স্টলে পাশে আমেনার চিতাই পিঠার দোকানে বসে ছিলেন মফেলা। চলতে পথে এ দোকানে বসে থাকতে প্রায়ই দেখা যায় বৃদ্ধা মফেলাকে।
সাদা মার্কিন কাপড়ের পাতলা ফিল-ফিলে চাদরের ন্যায় একটি কাপড় গায়ে। কথা বলে দেখা গেল বিধবা মফেলার মনটাও ঠিক চাদরের মতই সাদা-সিঁধে। শেষ কথায় তার অনেক আক্ষেপ। জীবনের বাকী 'ক'টা দিন কারো কাছে কিছুই চাওনা আর মুই।
জারিফ





