অভিবাসী নারীদের অধিকার রক্ষা করতে হলে বিদেশে প্রথমত একজন শক্ত কুটনীতিক বসাতে হবে। যাতে করে অভিবাসী নারী গৃহ-শ্রমিকদের ওপর কোনো অনৈতিক কাজ হলে প্রতিবাদ করতে পারে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন নারী অভিবাসন শ্রমিক সংগঠনগুলো।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ফর দি রাইটস অফ বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট (ডাব্লিউএআরবিই) আয়োজিত 'অভিবাসী নারী শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় মতবিনিময় সভায়' বক্তারা কথা বলেন।

নারী বক্তারা দাবি জানিয়ে বলেন, 'অভিবাসী নারী শ্রমিকরা বিদেশে যে কোনো বিপদে পড়লে বা তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে, তখন সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিক বিষয়টিকে শক্ত হাতে সমাধান করতে পারে। তাহলেই অভিবাসী নারী গৃহ-শ্রমিকরা উপকৃত হবে।'

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সৌদি আরবের মত এতবড় একটি মুসলিম দেশেও নারী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করা হয় কেন? তাই এসবের প্রতিবাদ জানাতে আমাদেরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়েও কথা বলতে হবে।'

এ সময় বক্তারা দালালদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'দালালদের হাত এত বড় লম্বা হয়ে গেছে যে তারা আইন-কানুন ছাড়াই বিদেশে মানুষ পাঠাতে পারে। এবং তাদের বিদেশে পাঠিয়েও বিপদে ফেলছে। এসবের কি কোনও প্রতিকার নাই সরকারের কাছে?'

এই মত বিনিময় সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ মো. ইসরাফিল আলম বলেন, 'বর্তমান সরকার নারী বান্ধব সরকার। যার কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পিকারসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশবাহিনীতে নারীরা স্বাধীনভাবে তার কাজ করছে।'

নারীদের পাশ কাটিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারব না মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'নারী-পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করতে হবে। তাহলেই দেশে এগিয়ে যাবে।'

সাংসদ মো. ইসরাফিল আলম সৌদি আরবে নারী গৃহ-শ্রমিক পাঠানো প্রসঙ্গে বলেন, 'আমাদের দেশের নারী গৃহ-শ্রমিকদেরকে সৌদি আরবে সপ্তাহে এক দিন ছুটি দিতে হবে। সেই সাথে তাদেরকে ফোন ব্যবহার করতেও দিতে হবে।

যাতে করে তারা তাদের আত্নীয়-স্বজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে।'

নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে নারী গৃহ-শ্রমিকদের কাজ করানো যাবে না উল্লেখ করে ইসরাফিল বলেন, 'নারী গৃহ-শ্রমিকরা ৮ ঘন্টা কাজ শেষ করে যেন ডরমেটরিতে থাকতে পারে সেজন্য আমরা বারগেইনিং করব। তাহলে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা থাকবে।

একই সাথে কোনও লেন-দেন হাতে হাতে হবে না। সকল আর্থিক লেন-দেন অবশ্যই ব্যাংকের মাধ্যমে হতে হবে।'

আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সৈয়দ সাইফুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায়, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহামেদ, বিওএএফ এর চেয়ারম্যান নাজমুল আহাসা।

এমএ/কেএইচ