কোনো অভিযোগ ছাড়াই আয়েশা (২৯) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বাড়ি থেকে ধরে এনে সারারাত থানায় আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আয়েশা যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফার মেয়ে। জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাবার বাড়ি থেকে ওই নারীকে তুলে আনা হয়। এরপর সারারাত থানায় আটকে রেখে শনিবার সকাল ১১টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
আয়েশার বোন হাফসা খাতুন অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোতোয়ালি থানার এসআই হেমায়েত বাড়ি থেকে আয়েশাকে ধরে নিয়ে যান। এ সময় হাফজা ও তার মা সঙ্গে যান।
আয়েশার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ জিজ্ঞেস করলে, এসআই হেমায়েত তাদের বলেন, ‘ওসি সাহেব কিছু কথা বলে ছেড়ে দেবেন।’ থানায় নেওয়ার পর আপাকে সারারাত আটকে রাখা হয়।
হাফজা ও তার মা রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি চলে যান। সকালে আয়েশার কাছে ওসি সহিদুল ইসলাম জানতে চান, স্বামীর বাড়িতে ফিরে যাবে কি-না। সেখানে যেতে অস্বীকার করায় সকাল ১১টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
হাফসা খাতুন আরও জানান, ৯ বছর আগে গোপালগঞ্জের ফরহাদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আয়েশার বিয়ে হয়। তারা ঢাকার মিরপুরে থাকতেন। স্বামীর সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিন মাস আগে আয়েশা স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসেন। এর কিছুদিন পর দুলাভাই ফরহাদ আর নির্যাতন করবেন না বলে বোনকে নিয়ে যান। কিন্তু ফের নির্যাতন শুরু করায় আয়েশা যশোরে চলে আসেন।
হাফজা অভিযোগ করেন, আয়েশা ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাকে ফিরিয়ে নিতে এর আগে ফরহাদ এলাকার ক্লাবের ছেলেদের দিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা করেছিলেন। এবার তাকে বিনা অপরাধে থানায় একরাত আটকে রাখা হলো। তারা দুর্বল বলে এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে ওই নারী স্বামীর বাড়ি থেকে চলে এসেছেন। তার স্বামী তাকে নিতে এসেছিলেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ডেকে এনে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগ ছাড়াই একজন নারীকে সারারাত থানায় রেখে দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ওই নারীর স্বামী যেহেতু সঙ্গে ছিলেন, তাই এটি কোনো সমস্যা না।
ঢাকা, ৫ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





