উখিয়া-টেকনাফের বঙ্গোপসাগর উপকূল দিয়ে ইয়াবা বহনে ব্যবহার হচ্ছে ফিশিং ট্রলারের নামে প্রায় ২শ নৌকা।
মাছ ধরার নামে ট্রলারগুলোর নাম ফিশিং ট্রলার দিলেও আসলে সেগুলো মাছ ধরতে ব্যবহার হয় না।
বর্তমানে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রোডে পরিণত হয়েছে বঙ্গোপসাগর। নাফ নদীর চেয়ে ব্যপক হারে ব্যবহার হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের ফিশিং ট্রলার।
উখিয়া-টেকনাফ বঙ্গোপসাগর সৈকতের প্রত্যেক ঘাটেই রয়েছে কয়েকটি করে ইয়াবা বহনের ফিশিং ট্রলার, যার মালিক ইয়াবা গড ফাদাররা।
নিজস্ব ফিশিং বোটে নিরাপদে মাল বহনের সুবিধার্তে নিজেই জেলে সেজেছে। বঙ্গোপসাগর দিয়ে আসা ইয়াবার প্রত্যেক চালানেই থাকে কয়েক লক্ষ পিচ, যা সুযোগ বুঝেই পার্শ্ববর্তী গ্রামে অস্ত্র পাহারায় নিরাপদ স্থানে পৌছে যায়।
আবার প্রত্যেক ঘাটেই রয়েছে মাঝি বা মাস্তান যাদের দায়িত্বে মাল উঠা-নামা করে, বিনিময়ে সেই বাহিনীকে দিতে হয় কয়েক লক্ষ টাকা।।বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর সৈকতের ঘাটে শুধু ইয়াবা বহনে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ২শ টি নৌকা।
যে নৌকা গুলোর মালিক ইয়াবা গড ফাদাররা। আবার প্রায় ঘাটেই রয়েছে ইয়াবা বহনের কাজে ভাড়ায় চালিত নৌকা। তারা ফিশিং বোট সেজে ঘাটে অবস্থান করলেও মাছ শিকারে যায়না, ইয়াবা বহনের কন্ট্রাক্ট পেলে জেলে সেজে মাছ শিকারের কথা বলে সাগরে যায়।
সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ছয় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শহরের কস্তুরাঘাটে এ অভিযান চালায়।
ডিবি পুলিশ ফিশিং ট্রলারটি তল্লাশি করে ইয়াবা, দুটি দেশী তৈরি অস্ত্র ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নামে এক মাঝিকে আটক করেছে।
মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আসা রোধকল্পে সরকার নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়ার পর ইয়াবা কারবারিরা তাদের এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যেতে সাগর পথকে বেছে নিয়েছে।
ইয়াবার বিশাল চালান উদ্ধার শেষে গণনায় কম দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে সর্বত্র তোলপাড় ও কানাঘুষা চলছে।
সূত্র জানায়, মিয়ানমারের সিটওয়ে (আকিয়াব) থেকে ছয় লাখ পিস ইয়াবা ভর্তি করে গভীর সমুদ্র পথে মাছ ধরার ভ্যানে করে ট্রলারটি নিরাপদে চলে আসে কক্সবাজারে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের কস্তুরাঘাটে এটি নোঙর করে। জানা গেছে, ওই ট্রলারে থাকা লোকজনের মধ্যে ছিল ডিবি পুলিশের সোর্স। গোপনে সংবাদ পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এসআই ফারুক ইসলামসহ একদল ডিবি পুলিশ বেলা ১২টায় ওই ট্রলারে তল্লাশি চালায়।
আটক করা হয় শহরের সমিতিপাড়ার মৃত বাচা মিয়ার পুত্র ট্রলারের মাঝি আব্দুল্লাহকে। পরে তার দেয়া তথ্য মতে গোয়েন্দা পুলিশ ট্রলারের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থা থেকে বিপুল ইয়াবা, দুটি বন্দুক ও ৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
তল্লাশি চলাকালে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে যেতে না দিলেও অদূরে থেকে তারা দেখতে পেয়েছেন ইয়াবার পরিমাণ অন্তত ৫-৬ লাখ পিস হতে পারে। স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি বলেন, ৬লাখ পিস ইয়াবার মূল্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা।
তারা আরও বলেন, ডিবি পুলিশের সোর্স থাকে, তাই সোর্সমানি দিতে গেলে বেশিরভাগ ইয়াবা গায়েব করতে হয়। তারা এটাও দাবি করেন যে সোর্সমানি না দিলে ভবিষ্যতে ইনফরমেশন তথা গোপন সংবাদ পাওয়া যাবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, বড় বড় ইয়াবা কারবারি (গডফাদার) সাগরপথে হাতের কাছে অবৈধ অস্ত্র রেখে অন্তত ৫-১০লাখ পিসের কম ইয়াবার চালান নিয়ে আসে না। একদিকে অবৈধ অস্ত্র অপরদিকে ইয়াবার চালান। এত বড় ঝুঁকি নিয়ে কেউ মাত্র ৩৫ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে রওনা দেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফিশিং ট্রলারের নামে এই ইয়াবা বাণিজ্য এখন এতটা নিরাপদ ও জনপ্রিয় হয়ে গেছে যে সবাই এখন জেলে না হলেও জেলে সেজে একটি ফিশিং ট্রলার বঙ্গোপসারে নামানোর চিন্তা করছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা তাদের কেউ মাছ ধরার পেশার সাথে জড়িত না।
জেড





