নড়াইলে কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে এবছর ২১ হাজার দেশি গরু মোটা তাজা করা হচ্ছে, জেলার চাহিদার থেকে ৮ হাজার নড়াইলের দেশি গরুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

দেশিয় পদ্ধতিতে জেলার চাষিরা গরু মোটাতাজা করে তাই এই জেলার গরুর চাহিদা বেশি।এসকল গরুর মাংশের চাহিদাও রয়েছে বেশ। প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে জেলার খামারীরা ও কৃষকেরা গরু মোটাতাজা করে।

গত বছর কুরবানি ঈদে জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৩৭৩৭ হাজার গরু বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেছে জেলার চাষিরা। আর এবছর স্থানীয় চাহিদা মিঠিয়ে অনন্ত ৮ হাজার উদ্বৃত্ত গরু জেলার বাইরে বিক্রয় করতে পারবে বলে দাবি জেলা প্রনি সম্পাদ অফিসের।

আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্যর ও ছবির ভিতিতে জানাজায় জেলা প্রনি সম্পাদ অফিস সুত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর নড়াইলের কৃষকেরা ও খামারীরা কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে দেশিয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে। গত বছর ১৫৭৭৪টি গরু মোটাতাজা করেছিল।


যার মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ৪৫৩২টি লোহাগড়ায় ৬৫৬০টি কালিয়ায় ৪৬৮২টি। আর চলতি বছরতা বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় বর্তমানে ২১০০০ বেশি গরু মোটাতাজা করছে জেলার খামারি ও কৃষকেরা। প্রতিবারের নেয় এবছরও তিনটি উপজেলার মধ্যে নড়াইল সদরে বেশি গরু মোটাতাজা করা
হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবছর জেলায় ৫২২৬টি গরু বেশি মোটাতাজা করছে।


গত বছর সরকার ভারত গরু আমদানি না করায় স্থানীয় গরুর চাহিদা ছিল বেশি। তাই জেলার গরু খামারীরা ভাল লাভ করেছে। চলতি বছর জেলায়র অনেক খামারি গত বারের তুলনায় আরও বেশি গরু
মোটাতাজা করছে। অনেক নতুন খামার গড়ে উঠছে। খামারি ছাড়াও জেলার সাধারন কৃষকেরা বাড়তি ইনকামের জন্য বাড়িতে একটি দুটি করে গরু মোটাতাজা করছে।

বর্তমানে জেলায় মোট রেজিস্ট্রিকৃত গরুর খামার রয়েছে ৩৫৫টি ( কোন কৃষকের তিনটি গরুর বেশি
থাকলে একটি খামার ধরা হয় )। যার মধ্যে নড়াইল সদরে ২০৭টি লোহাগড়ায় ৯৬ টি এবং কালিয়ায় ৯৪টি। সাধারন্ত জেলার খামারিরা কোরবানিকে সামনে রেখে এসকল গরু মোটাতাজা করে। গত বছর জেলায় কুরবানির গরুর চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার।

সে হিসাবে জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৩৭৭৪টি গরু বেশি মোটাতাজা করেছিল। আর এসকল উদ্বৃত্ত গরু বিভিন্ন জেলার কোরবানির চাহিদা মিঠিয়েছে। জেলা পশু অফিসের হিসাব অনুযায়ী এবছর জেলায়
কোরবানি গরুর চাহিদা হবে সর্বপরি ১৩ হাজার। অর্থাত জেলার চাহিদারচে  তিনটি উপজেলায় মোট ৮ হাজারের বেশি গরু মোটাতাজা করছে জেলার কৃষকেরা।


জেলা প্রনি সম্পাদ অফিস সুত্রে জানাগেছে, দেশিয় পদ্ধতিতে এখান কার চাষিরা গরু মোটাতাজা করেন তাই এই জেলার গরুর চাহিদা বেশি। আকার ভেদে গত বছর প্রতিটা গরু ৩০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছে এখানকার চাষিরা। গড়ে প্রতিটা গরু ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করলেও গত বছর
১৫৭৭৪ টি গরু ৭০৯৮৩০০০০ টাকা বিক্রয় হয়েছে।

আর এবছর ২১০০০টি গরু৯৪৫০০০০০০ টাকা বিক্রয় হবে বলে আশা করছে সংশিলষ্ঠরা।
বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে নড়াইল সদরের মির্জাপুর, চাকই,সিংগাশোলপু, গোবরা, কমখালি, শাহবাদ,সিমানন্দপুর, জুড়–লিয়া। লোহাগড়া উপজেলার শিয়েরবর, চাচই, কোলা, কুমড়ি, দিঘলিয়া, মল্লিকপুর, মাকড়াইল,লাহুড়িয়া।

কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া, মহাজন, টোনা, খাশিয়াল, বাবরা, গ্রামের কৃষক ও খামারিরা অন্যন্য এলাকা থেকে বেশি গরু মোটাতাজা করছে। জেলায়মোট যে গরু মোটাতাজা করা হয় তার ৩৫ ভাগ গরু মোটাতাজা করছে।খামারিরা আর বাকি ৬৫ ভাগ গরু মোটাতাজা করছে জেলার সাধারন কৃষকেরা।প্রতিটা কৃষকের গোয়াল ঘরে তাদের হালের গরুর পাশাপাশি একটি দুটি করেমোটাতাজা করন গরু রয়েছে। আর এসকল গরু কোরবানিকে সামনে রেখে


মোটাতাজা করছে তারা।কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সাধারন্ত বছরের শুরুতে দেশি প্রজাতির প্রতিটি বাছুর ১২-১৫ হাজার টাকায় ক্রয় করে পালন করতে থাকে। সারা বছর খাবার
হিসাবে কাজের ফাকে বিল থেকে কাচা ঘাস কেটে এনে খাওয়ানো হয়। এবং ঈদের ২ মাস পূর্বে খড়, খৈল, কুড়া, ও ভুষি খাওয়ানো হয়।

বছরে যে খাবার লাগে অধিকাংশ খাবারই বিলের কাচা ঘাষ। এই ঘাস ক্রয় করা লাগেনা তায় খরচ অনেক কম হয়। একটি বাছুর ১২-১৫ হাজার টাকায় ক্রয় করে সারা বছর পোষার পরে ঈদের সময়
আকার ভেদে ৪৫- ৭০ হাজার টাকায় বিক্রয় হয়।

কৃষকেরা প্রতিটা গরু থেকে বছর শেষে আকার ভেদে ৪৫-৫০ হাজার টাকা লাভ করে।নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলায় মোট ১১টি হাটে গরু বেচাকেনা হয় স্থানীয় গরুর মালিকেরা এসকল হাটে নগদ টাকায় গরু বিক্রয় করেন।


১১টি হাটের মধ্যেজেলায় মোট ৪টি বড় হাট রয়েছে, মাইপাড়া গরুর হাট, লোহাগড়া গরুরহাট,শিয়েরবর গরুরহাট, এবং পুরুলিয়া গরুরহাট। এখানে বিভিন্ন জেলার বেপারিরা এসে এখানকার গরু ক্রয় করে ট্রাকে নিয়ে ঢাকা,সিলেট, চিটাগাংসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রয় করে।


এছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকায় কৃষকের বাড়ি বাড়ি যেয়ে গরু ক্রয় করে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় বকরে। বর্তমানেএই পেশার সাথে জড়িত রয়েছে জেলার প্রায় ১৪ হাজার মানুষ (খামারি, কৃষক ও বেপারিরা)।খামারিরা জানান, গত বছর দেশের বাইরে থেকে বেশি বিদেশি গরু নড়াইলের কোন হাটে আসেনি তাই দেশি গরুর চাহিদা ছিল অনেক বেশি।

আমরা খামারিরা ও স্থানীয় কৃষকেরা নিজেদের গরু ভাল দামে বিক্রয় করতে পেরেছি।
লাভ খুব ভাল হয়েছিল। আশা করছি সরকার এবছর ও বিদেশি গরু আমদানী করবেনা। সরকার যদি বিদেশি গরু আমদানি না করে তাহলে আমরা খামারিরা ভাল দাম পাব।

লাভবান হতে পারবো।নড়াইল সদরের মির্জাপুর এলাকার কৃষক খাজা মিয়া জানান, আমি গত বছরকোরবানি ঈদকে সামনে রেখে একটি বাছুর ১৮ হাজার টাকায় ক্রয় করে ১১ মাসপালন করে কোরবানির আগে ৫৬ হাজার টাকায় বিক্রয় করে ছিলাম।

খরচ বাদে আমার একটি গরু থেকে ৩২ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবছর আমি ৩০ হাজার টাকাদিয়ে ২ টি এড়ে বাছুর ক্রয় করে পালন করছি। গরু দুটি অনেক বড় হয়ে গেছে।আশা করছি কোরবানি সামনে রেখে ২টি গরু এক লক্ষ টাকার বেশি বিক্রয় করতেপারবো। আশা করছি সরকার এবছরও বিদেশ থেকে কোন গরু আমদানি করবেনা।


নড়াইল জেলা প্রনি সম্পাদ কর্মকর্তা ড. অমলেন্দু ঘোষ জানান, গত ৪/৫ বছরআগে ও নড়াইলের চাষিরা অল্প পরিসরে গরু মোটাতাজা করত। সে সময় সরকার বিদেশ থেকে ঈদের সময় গরু আমদানি করায় জেলার অনেক খামারি ও কৃষকেরাগরুর নায্য মূল্যনা পেয়ে ক্ষতি গ্রস্থ্য হয়েছে।
গত বছর সরকার বিদেশ থেকে গরুআমদানি না করায় জেলার স্থানীয় কৃষকের গরুর চাহিদা ছিল অনেক বেশি।


স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা লাভবান হয়েছে। তাই এবছ অনেক কৃষক গরু
মোটাতাজা করনে আগ্রহী হয়েছে। আমরা সরকারী ভাবে তাদেরকে ৪৫-৫০ ভাগওষুধ ফ্রী দিয়ে থাকি। এবং বিভিন্ন পরামর্শসহ সব সময় খোজ খরর রাখি। আশা করছি এবছরও জেলার খামারি ও কৃষকেরা লাভ হয়।

এআই