আজ ৬ মার্চ। যশোরের চাঞ্চল্যকর উদীচী সম্মেলেনের বোমা হামলার ১৮ তম বার্ষিকী। ১৯৯৯ সালের এই দিন যশোর মুন্সি মেহেরুল্লাহ ময়দানে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে শক্তিশালী দুটি বোমার বিস্ফোরণে সংস্কৃতিসেবীসহ দশ ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন শতাধিক সাধারণ মানুষ।যশোরে দিবসটি উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে ।
স্বজন হারানো পরিবারগুলো আজো বিচার পায়নি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের।
সে দিন ছিল উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিন। তখন মধ্যরাত। রাত ১টা ৬ মি.। বিকট শব্দে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটলো মঞ্চের কাছে। নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞের পর পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। একটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে, অন্যটি বোমা হামলার। কিন্তু এই মামলার অভিন্ন আসামিরা সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যান।
অন্যদিকে এই ঘটনাটিকে রাজনৈতিক মোড়ক লাগিয়ে তৎকালীন সরকার বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মামলা সাজানোয় প্রকৃত দোষীরা নিস্তার পেয়ে যায়।
উদীচী যশোরের সভাপতি ডি এম শাহিদুজ্জামানের মতে, বিচারটি ছিল প্রহসনমূলক। রায়ের পর যথারীতি আপিল হয়। কিন্তু মামলাটি এখন স্থগিত হয়ে আছে।
তবে সরকারি কৌঁসুলি বলছেন, খালাস পাওয়া আসামিরা আদালতের নির্দেশে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়েছিলেন। তাই মামলাটি স্থগিত রয়েছে বলা যাবে না; বরং চলমান আছে।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে আজ সোমবার নানা কর্মসূচি পালন করবে 'উদীচী হত্যা মামলা পুনঃতদন্ত ও বিচার আন্দোলন কমিটি'। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, রক্তদান, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, আলোচনা সভা এবং প্রতিবাদী সঙ্গীতানুষ্ঠান।
তারেক/নাজিব





