দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও বেফাক সভাপতি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি বহাল করে স্কুল কলেজসহ সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মহীনতা ও নাস্তিক্যবাদি ধ্যানধারণার শিক্ষা কায়েম করার পর কার্যতঃ এখন ইসলামী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কওমি মাদরাসাসমূহের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
দেখা যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে কওমি মাদরাসায় লেখাপড়া করা শিক্ষিত তরুণ আলেমদের প্রাপ্ত সনদের সরকারি মান থাকার একটা ন্যায্য অধিকারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কওমি আলেমদেরকে আদর্শচ্যুত করা, মাদরাসাসমূহের স্বাধীন শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং নানা বিভ্রান্তিকর প্ররোচণার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে প্রতিষ্ঠানসমূহের আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিনষ্ট ও আলেমদের মধ্যে বিভক্তি আনার নানা তৎপরতা চলছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশের আলেম সমাজের ঐক্যকে আরো জোরদার করার পাশাপাশি বিচক্ষণতার সাথে নীতি-আদর্শে অটল ও অবিচল থাকতে হবে। তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা কখনোই সফল হবে না।
আজ সকাল ১০টায় ফেনী জেলার কওমি মাদরাসাসমূহের পরিচালক ও শিক্ষকদের নেতৃস্থানীয় ৩০ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রশ্নে বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর অবস্থানের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন থাকার কথা জানাতে তার সাথে দেখা করতে গেলে তাদের উদ্দেশে তিনি একথা বলেন।
ওমি মাদরাসার আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের গভীর আনুগত্য ও শ্রদ্ধাবোধ বিনষ্টের মাধ্যমেও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করে আল্লামা শফী বলেন, কতিপয় আলেম নামধারীর অপতৎপরতা আমরা লক্ষ্য করছি। এ সম্পর্কে কওমি শিক্ষক-ছাত্র সবাইকেই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। তিনি বেফাক নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা সরকারকে বেকাদায় ফেলার চেষ্টা করছে। আলেম সমাজ ও কওমি মাদরাসা নিয়ে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহতে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের পাশে থাকবে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন মাওলানা আবুল কাসেম ভূঁইয়া, মাওলানা আফজালুর রহমান, মুফতি রহিমুল্লাহ কাসেমী, মাওলারনা সায়ীদুর রহমান, মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা আবুল কাসেম (লালপোল), মাওলানা ইউসুফ, মাওলানা আবুল কাসেম (হোসাইনিয়া), মাওলানা হুসাইন আহমদ, মাওলানা হুসাইন আহমদ উল্লাহ, মুফতি আবুল কাসেম (ঘাটঘর), মাওলানা নূরুল হুদা করীমপুরী, মাওলানা আব্দুল হাই, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আব্দুল হান্নান, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা শহীদুল্লাহ, মাওলানা ইকরাম, মাওলানা হারুন প্রমুখ।
প্রতিনিধি দলের পক্ষে মাওলানা আবুল কাসেম ভূঁইয়া ও মুফতি রহিমুল্লাহ কাসেমী কওমি সনদ ইস্যুতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পক্ষে সর্বাত্মক সর্মথনের কথা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
তারা বলেন, বেফাক সভাপতির অবস্থানের বাইরে তারা এককদমও পা রাখবেন না।
ফেনী জেলা ওলামায়ে কেরামের প্রতিনিধি দলকে উদ্দেশ্য করে বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, গত ৩ অক্টোবর বেফাকসহ আঞ্চলিক কওমি মাদরাসা বোর্ডসমূহের প্রতিনিধিদের বৈঠকেও আমি স্পষ্ট করে বলেছি, কওমি মাদরাসাসমূহ দারুল উলুম দেওবন্দের উসূল তথা নীতি-আদর্শ মতে পরিচালিত হয়।
সনদের ইস্যুসহ যেকোনো বিষয়ে দেওবন্দের নীতি-আদর্শের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই। ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ যেভাবে পরিচালতি হয়, সনদের মান নির্ধারণের বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিমালা যেরকম, আমরা সেভাবেই চলতে চাই। ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ সে দেশের সরকারের সাথে কোনোরূপ নিয়ন্ত্রণমূলক ও দাফতরিক সম্পর্ক ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের শিক্ষাক্রমসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার সনদের সরকারি মান নির্ধারণ না থাকাটা এখনকার নতুন সমস্যা নয়। এটা বৃটিশ শাসনামল থেকেই চলে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি দিতে অতি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদি সরকারের দিক থেকে অতি আগ্রহ প্রকাশ এবং কারো কারো দিক থেকে যেনতেনভাবে এই স্বীকৃতি গ্রহণে অতিউৎসাহী তৎপরতা গভীর ষড়যন্ত্রের সন্দেহ তৈরি করে।
তিনি বলেন, ২০১০ সালে ধর্মহীন শিক্ষানীতি জারির পর সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামী শিক্ষা পর্যায়ক্রমে উৎখাত, ২০১৩ সালের ৭ মে পত্রিকায় প্রকাশ হওয়া বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা সম্পর্কে ইউকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য এবং ২০০৯ সালে কওমি মাদরাসার শিক্ষাক্রম ও আয়ের উৎসে কঠোরভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণারোপের জন্যে বিশ্বব্যাংকের নজিরবিহীন প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনা এমন সন্দেহকে আরো গভীর করে। তাছাড়া গত কয়েক বছর ধরে কিছু পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন মিডিয়া ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নানা সময়ে কওমি মাদরাসার শিক্ষাক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের জন্যে নানা বিতর্কিত সুপারিশ ও মন্তব্য আসছে। বিজ্ঞপ্তি।
এসএ





