বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। অথচ ঈদ মৌসুমে ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দেশের বড় বড় বিপণিবিতান পোশাক আমদানি করছে।

ইতিমধ্যে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে আমদানি করা পোশাক পৌঁছে গেছে। এবার রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই ছোট, বড় শপিংমলে নারীদের পোশাকের প্রায় পুরোটাই ভারত, চীন আর থাইল্যান্ডের দখলে। প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পোশাক আমদানি করা হয় বলে জানা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন নিত্য-নতুন ডিজাইন আর কাপড়ের মান উন্নত হওয়ায় চড়া দাম হলেও এসব পোশাকের প্রতি আগ্রহ ক্রেতাদের। যদিও দেশি উদ্যোক্তারা বলছেন, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবেই মূলত বিদেশি পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

বৈচিত্র্যময় কারুকাজ, বাহারি ডিজাইন আর চোখ ধাঁধানো সব রং। দেখে যে কারো মনে হতে পারে এ যেনো থাইল্যান্ড, মুম্বাই অথবা সিঙ্গাপুরের কোনো বিপণি বিতান। কিন্তু না এ দৃশ্য রাজধানীর অভিজাত বিপণী বিতান থেকে শুরু করে ছোট,বড় বেশিরভাগ শপিং মলের। এবারের ঈদ উপলক্ষে করে এসব পোশাক আমদানি করা হয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে।


প্রশ্ন হলো,যে দেশের প্রধান রফতানি আয় আসে এই তৈরি পোশাক থেকে, সে দেশের উৎসবকেন্দ্রীক পোশাকের বাজার কেন আমদানি নির্ভর।

ক্রেতারা বলছেন, 'ঈদে সবাই চায় জাঁকজমক পোশাক কিনতে। অন্যরকম ফেব্রিকস চায় সবাই।'

ব্যবসায়ীরা বলছেন, 'আমার এখানে যা দেখছেন, ১০০ ভাগের মধ্যে ৯০ ভাগই মুম্বাই থেকে আসা। বিদেশি পোশাকের গুণাগুণ ভালো হয় এবং নতুন মডেলের পোশাক পাওয়া যায়।'

বিক্রেতারা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার বিদেশি পোশাক আমদানি হয়। এসব পোশাকের দামও হাঁকাচ্ছেন ১৫শ' থেকে শুরু করে মানভেদে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। যদিও অন্যান্য বছর পোশাকের নামে ভারতীয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের প্রভাব থাকলেও এবছর তেমনটি চোখে পড়েনি।

ক্রেতারা বলেন, 'আকাশ সংস্কৃতির যুগ তো, সবকিছুই হাতের মুঠোয়। দেখা যায়, টিভিতে আরাবিয়ান পোশাক দেখছি আবার কখনও ইন্ডিয়ান দেখছি। হঠাৎ মনে হলো আমি তাদের পোশাক কিনবো।'

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিদেশি পোশাকের ভিড়ে, কিছুটা হলেও স্থান দখলের চেষ্টা করছে দেশিয় কয়েকটি ব্র্যান্ড। কিন্তু পোশাক তৈরির প্রধান উপকরণ ফেব্রিকস আমদানি নির্ভর হওয়ায় দেশীয় পোশাক আসলেই কতটা দেশি হতে পেরেছে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে?

তৈরি পোশাকের উপর ভর করে মেইড ইন বাংলাদেশের স্বীকৃতি এখন বিশ্বব্যাপী। এথচ এদেশে উৎসব কেন্দ্রীক পোশাকের বাজার এখনো বিদেশি পণ্যের দখলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন প্রতিযোগীতার সক্ষমতা অর্জনে কাপড়ের মান ও ডিজাইনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে উদ্যোক্তাদের। এএস