আগের বছরগুলোর ধারবাহিকতায় এবারও বছরের প্রথম দিন থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। এটি মেলার ২১তম আসর। ১ জানুয়ারি শুরু হয়ে মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করবেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
মন্ত্রী জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলায় যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মেলায় প্রবেশ মূল্য বা টিকিট মূল্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিট মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ।
মেলায় প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশা করছেন মন্ত্রী।
লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এ বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ১৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৫৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, জেনারেল প্যাভিলিয়ন ১০টি, রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন তিনটি, ফরেন ৩৮টি প্যাভিলিয়ন অন্যতম। এছাড়া থাকছে প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৬টি, জেনারেল মিনি প্যাভিলিয়ন ১৩টি, রিজার্ভ মিনি প্যাভিলিয়ন ছয়টি, ফুড স্টল ২৫টি ও রেস্টুরেন্ট পাঁচটি।
মেলায় বিশ্বের ২১টি দেশের মধ্যে নতুন দেশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে মরিশাস, ঘানা, নেপাল। এছাড়াও বিগত বছরে অংশ নেয়া দেশগুলোর মধ্যে এবারো থাকছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অসেস্ট্রলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান, আরব আমিরাত।
গত বছরের মতো এবারও মেলার গেট হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মতো। মেলায় এবারও থাকছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ইকো পার্ক, ই-শপ, ই-পার্ক, ফুড কোর্ট, পর্যাপ্ত টয়লেট, এটিএম বুথ, মসজিদ, পোস্ট অফিস। প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে অটিজম সেন্টার, মাদার কেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এছাড়া ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পণ্যের সঙ্গে ভোক্তাদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ে। সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদকদের মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উত্সাহ যোগায়।
২০১৮ সালে মেলা আয়োজনের জন্য পূর্বাচলে ২০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, চীনা সরকার পূর্বাচলের ওই জায়গায় সারা বছর বিভিন্ন মেলা আয়োজনের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করবে।
মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মেলায় ২০১০ সালে ২২ কোটি ৮৬ লাখ, ২০১১ সালে ২৫ কোটি, ২০১২ সালে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ, ২০১৩ সালে ১৫৭ কোটি ও ২০১৪ সালে ৮০ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে ৮৫ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। এবার আরো বেশি রপ্তানি আদেশ পাওয়া যাবে বলে আশা মন্ত্রীর।
নিরাপত্তার স্বার্থে একই সঙ্গে মেলায় থাকবে পুলিশ, র্যাব ও আনসার ও বিজিবি। অগ্নিদূর্ঘটনা এড়াতে থাকবে ফায়ার ব্রিগেডের ব্যবস্থা। এছাড়া মেলার চারপাশে থাকছে ১০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসূ, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমেদসহ অন্যান্যরা।
এমএইচ





