কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী সংলগ্ন ৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। পদ্মার ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কুমারখালী শিলাইদহ ইউনিয়নের মানুষ।

তবে প্রশাসন এখন পর্যন্ত তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ পদ্মার পাড়ের সাধারন মানুষের। এই অবস্থায় নদী ভাঙ্গন ঠেকানোর কোন ব্যবস্থা না করলে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজ হাতে তৈরী হাসপাতাল, কাচারীঘরসহ কুঠিবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

পদ্মা নদী সংলগ্ন কুমারখালীর কয়া ও শিলাইদহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে পদ্মা নদীর ভাঙন। গত কয়েকদিনে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের পাকা রাস্তাসহ কয়েকটি গ্রামের মূল্যবান গাছপালাসহ প্রায় ৬০/৭০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শিলাইদহ ইউনিয়নের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় কোমরকান্দী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পড়েছে হুমকির মুখে। আর মাত্র ৫০ মিটার নদী ভাঙ্গলে স্কুলটি পদ্মার গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। স্কুলে আসার রাস্তা পদ্মায় ভেঙ্গে যাবার কারণে এবং পদ্মার ভাঙ্গন স্কুলের ৫০ মিটার এর মধ্যে চলে আসায় শিক্ষার্থীদের হার কমে গেছে বিদ্যালয়টিতে এমনটিই বললেন কোমরকান্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক আয়াত আলী।

তিনি বলেন, আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে তাই ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার ব্যাবস্থা নিশ্চিত করার দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মেহের সরদার বলেন, চলাচলের একমাত্র রাস্তা পদ্মার করাল গ্রাসে বিলিন হয়ে যাবার ফলে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, জীবনের ঝুকি নিয়ে এখনও অনেক পরিবার বসবাস করছে পদ্মার পাড়ে। কিন্তু নদী ভাঙ্গনরোধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়ানি প্রশাসন।

আবুল হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়লেও কোন রকম সরকারী সাহায্য পায়নি ভাঙ্গনের কবলে পড়া বাসিন্দারা। সামান্য জমি আর থাকার একটি কুড়ে ঘর আছে তাও হয়তো থাকবে না। দুই একদিনে বিলিন হয়ে যাবে পদ্মার গর্ভে।

এদিকে পদ্মার ভাঙ্গন দ্রুত রোধ করা না গেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজ হাতে তৈরী হাসপাতাল, কাচারীঘর সহ কুঠিবাড়ী পদ্মায় বিলিন হয়ে যাবে। কুঠিবাড়ী থেকে মাত্র ৩০০ মিটার, কাচারী বাড়ীথেকে মাত্র ৫০ মিটার এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজ হাতে তৈরী হাসপাতাল থেকে ৩০ মিটার দুরে পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মনজুর রহমান কুঠিবাড়ী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় নদী ভাঙ্গনরোধে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং প্রাথমিকভাকে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। অনতিবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকেই সহযোগিতা করা হবে।

ঢাকা, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর