রাজধানীর ফুটপাতে অবাধ চলাচলের পথে প্রধান অন্তরায় ভাসমান হকার।জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট কিংবা মতিঝিল, দিলকুশা, ফার্মগেট, মিরপুর হয়ে উত্তরে উত্তরা ও আজমপুর পর্যন্ত বরাবরই থাকছে হকারদের দখলে।সম্প্রতি সিটি করপোরেশন পরিচালিত অভিযানে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করার পর অভিযান শেষ হতে না হতেই হকাররা আবার দখলে নেয়ার ঘটনা ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফুটপাতগুলো হকার্স নেতা ও স্থানীয় দলীয় নেতাদের দখলেই পরিচালিত হয়। ফুটপাতের অবৈধ স্থানে টাকার বিনিময়ে বসা ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান ভেদে দিনপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে লাইনম্যানকে। না হলে ফুটপাতে ব্যবসার চিন্তা করাই দুষ্কর। আর ওইসব লাইম্যানকে নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় নেতা ও থানা পুলিশ।

রাস্তার উভয় পাশে জুতা, পোশাক, ঘড়ি, বেল্ট, নানান পণ্যের পসরা নিয়ে বসে হকাররা। এ রাস্তায় যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকায় প্রায়ই সৃষ্টি হয় যানজট।

আর এসব চলে প্রশাসনের নাকের ডগাই। চলে অবৈধ ফুটপাত দখল ও অবৈধ বিদুৎ সংযোগের প্রকাশ্য মহড়া।

চন্দ্রিমার সামনে বসা হকার সুমন জানান, হঠাৎ অভিযানে তছনছ করে দেয়া তাদের মালামালের যা ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে আনতে দু’ একদিন সময় লেগে যায়। তারপরও লাইনম্যানকে টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু করার নেই, চলতে তো হবে।

সুমন জানান, তারও একটি দোকান নিয়ে ব্যবসা করার ইচ্ছা। কিন্তু চাহিদা মতো টাকা না থাকায় সে পেরে উঠছে না। প্রশাসনের হয়রানি, স্থানীয়দের চাঁদার চাহিদা মেটাতে না পেরে অনেকে ফুটপাতের ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যবসার সন্ধান করছে বলেও সুমন জানান।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর কিছু কিছু স্থানে হকারদের জন্য পুনর্বাসন প্রক্রিয়া করা হলেও সেগুলো দখলমুক্ত হয়নি। তারা ওইসব স্থানে যেতে চাননা। তাই ফুটপাতগুলো সরু করার প্রস্তাব রয়েছে। যাতে করে অবৈধভাবে কেউ দোকান বসাতে না পারে।

উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় হকাররা বসতে না পারে তাতে সার্বিক মনিটরিং জোরদার করতে হবে বলেও মনে করছেন তারা।

ফলে একদিকে যেমন মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে অপরদিকে বাড়ছে যানজট, বাড়ছে নগরবাসীর দুর্ভোগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে হকার উচ্ছেদের জন্য অভিযান চললেও দিন কয়েক পরে তা আবার আগের রূপে ফিরে যায়।

হকারদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের। তবে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কেউ মিটার আর কেউ সাব-মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি।’

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, সিটি করপোরেশনের কাজে সার্বিক সহযোগিতা করার কাজ ডিএমপি পুলিশের। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ লাইনম্যান দ্বারা দৈনিক বা মাসিক চাঁদা নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাঁদা নেয়ার বিষয়ে কোন সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এমএ কাশেম জানান, প্রতিদিন পুলিশের লাইনম্যান, টহল পুলিশ ও স্থানীয় ওয়ার্ড নেতাদের চাঁদা দিয়ে হকাররা ব্যবসা করে জীবনধারণ করছেন। তাদের পুনর্বাসন করা হলে ফুটপাত আর দখল হবে না।

তারা চান চাঁদাবাজির শিকার না হয়ে সিটি করপোরেশনকে বৈধভাবে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করতে। রাস্তার একপাশে সিটি করপোরেশন কর্তৃক হকারদের জন্য ছোট ছোট বক্স দোকানের ব্যবস্থা করলে বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব আয় করবে বলেও তিনি জানান।

 এমই