সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে গত ২৭ জুলাই। দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র এক হাজারের কিছু বেশি হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মূলত বিমান ভাড়া নির্ধারণ না হওয়ায় হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে সমঝোতা না হলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আগামী বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য চার লাখ টাকা জমা দিতে হচ্ছে, প্যাকেজ ঘোষণা হওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৪১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৪০ জন নিবন্ধন করেছেন। কর্মকর্তারা জানান, প্যাকেজ ঘোষণা না হওয়ায় হজযাত্রীরা অপেক্ষা করছেন।
জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন ও বিমান উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বৈঠকে ভাড়া নিয়ে আলোচনা হয়। গত বছর বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা। এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয় ভাড়া দেড় লাখ টাকার নিচে রাখতে চাইলেও বিমান কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৭১ হাজার (শুল্ক বাদে) এবং ১ লাখ ৮০ হাজার (শুল্কসহ) টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। বিমান ভাড়া ডলারে নির্ধারণ করতে চাইছে ১,৩০০ ডলার, আর ধর্ম মন্ত্রণালয় চাইছে ৮০০ থেকে ১,০০০ ডলারের মধ্যে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার জানান, ভাড়া এক হাজার ডলারের মধ্যে রাখতে হবে। এর বাইরে গেলে আন্দোলনের হুঁশকি দেন তিনি।
এদিকে সৌদি আরবের বেশিরভাগ খরচ নির্ধারিত হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখন মূল অপেক্ষা বিমান ভাড়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এ খরচ হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা। আগামী বছর খরচ কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
সৌদি আরবের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ হবে। এ সময় আর বাড়ানো হবে না বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এনএইচ