প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে দেশে-বিদেশে মিলে গত সাত বছরে প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। এত কর্মসংস্থান অতীতে আর কখনো হয়নি।

বুধবার সংসদের একাদশতম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যসূচি শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার পূর্বের মেয়াদে জনগণের অভূতপূর্ব রায় নিয়ে ৬ জানুয়ারি ২০০৯ সরকার গঠন করে। ওই গণরায়ের ভিত্তি ছিল রূপকল্প-২০১৯, দিন বদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মসূচির প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন।

তিনি বলেন, ‘যখন আমরা ২০০৯ এ সরকার গঠন করি, সারা বিশ্ব ছিল অর্থনৈতিক মন্দাগ্রস্ত। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও ছিল মন্দাকবলিত। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করি।’

শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৫ সালের নমিনাল জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৬তম এবং ক্রয়ক্ষমতা সমতার ভিত্তিতে ৩৪তম স্থান অধিকার করেছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত প্রধান পদেক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং বাংলাদেশের প্রধানতম শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকারের ঐকান্তিক প্রয়াসের ফলে দেশে ও বিদেশে মিলে গত সাত বছরে প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। এত কর্মসংস্থান অতীতে আর কখনো হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যেহেতু রূপকল্প-২০২১ সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে, সে কারণে তার দৃষ্টি কেবল এক বছরে সীমাবদ্ধ নয়। আওয়ামী লীগ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদে পরিণত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে ২০১৪-তে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথম সারির উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে উন্নীত করার রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে।

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও যে কোনো ধরনের অরাজকতা রোধসহ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আওয়ামী লীগ সরকার।

সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এ লক্ষ্যে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে দমনের লক্ষ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ সংশোধন করা হয়েছে। জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়টি সংগঠনকে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও সকল প্রকার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সব ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

কূটনৈতিক ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় পুলিশ কর্তৃক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে ফ্রান্স, ইতালি, জার্মান, স্পেন, ইউকে, সুইজারল্যান্ড, নেদআরল্যান্ড, সুইডেন, পর্তুগাল থেকে কৃষিভিত্তিক, টেক্সটাইল, কেমিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড লেদার প্রডাক্ট, পাওয়ার প্ল্যান্ট, ফার্সাসিউটিক্যাল, টেলিকমিউনিকেশন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বা যৌথ বিনিয়োগের নিশ্চয়তা ও আশ্বাস পাওয়া গেছে।

এমই