রাজধানীতে যেকোনো মূল্যে ছিনতাই প্রতিরোধ করতে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

সেই সঙ্গে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া ছিনতাই মামলাগুলোর রহস্য উদঘাটনেও কড়াকড়ি আরোপ করেছেন তিনি। খুব দ্রুত ওইসব মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন ডিএমপি কমিশনার।

শনিবার ডিএমপি সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন আছাদুজ্জামান মিয়া।

এ সময় তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে হোক না কেন, রাজধানীর ছিনতাই প্রতিরোধ করুন। এটিকে আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া আগের ছিনতাই মামলাগুলোর রহস্য উদঘাটন করুন। যেখানে অন্যান্য অপরাধ কমে এসেছে, সেখানে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেড়ে গেছে। তাই ছিনতাই বাড়তে না দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের তৎপর হয়ে এটাকে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। তাহলে নগরবাসী স্বস্তিতে বাস করতে পারবে।’

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ‘রাজধানীতে আরেকটি বড় সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে- তা হলো মাদকের ভয়াবহতা। মাদক প্রতিরোধেও পুলিশ কর্মকর্তাদের জিরো টলারেন্স দেখাবেন। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনা বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নিন। সেক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের পাশাপাশি বিট পুলিশিং কার্ক্রমকেও জোরদার করুন।’

মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে ডিএমপিতে কর্মরত কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত মোট ৬৩ জনকে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়।

কনফারেন্সে পুলিশের মিরপুর বিভাগকে শ্রেষ্ঠ বিভাগ, মিরপুর জোনের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসি) কাজী মামবুব আলমকে শ্রেষ্ঠ এসি, শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুবকর সিদ্দিককে শ্রেষ্ঠ ওসি, দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) ফারুকুল আলমকে শ্রেষ্ঠ ওসি-তদন্ত, শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (ওসি-অপারেশন) আবুল কালাম আজাদকে শ্রেষ্ঠ ওসি-অপারেশনের পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মধ্যে ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে শ্রেষ্ঠ বিভাগ, দক্ষিণের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসি) আরাফাত রহমানকে শ্রেষ্ঠ এসি, ট্রাফিকের মধ্যে দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগকে শ্রেষ্ঠ বিভাগ এবং কোতোয়ালি জোনের ট্রাফিকের অ্যাস্ট্যিান্ট কমিশনার (এসি) ফাতেমাকে শ্রেষ্ঠ এসি হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃত হিসেবে এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করতে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রতিমাসেই ডিএমপিতে এ ধরনের ক্রাইম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া ক্রাইম নিয়ে ডিএমপির ৪৯টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও ওসি-তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে শনিবার সকাল ১১টায় এ কনফারেন্স শুরু হয়। চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

কনফারেন্স শেষে বিকেল ৪টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের এসব বিষয়ে জানান গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।

ওএফ