ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছে। রোববার রাতে মামলা করা হয় বলে জানিয়েছেন নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর।

দুটি মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়ের দেড়শ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগেও, হামলার ঘটনায় দুই ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছিলেন।

গত ২৮ অক্টোবর (শুক্রবার) নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস নামের এক যুবকের ফেসবুক পেজ থেকে ধর্মীয় অবমাননার পোস্ট করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনার পরদিন শনিবার নাসিরনগরে এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরের দিন রোববার উপজেলা সদরের কলেজ মোড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সমাবেশ চলাকালে সদরের ১৫টি মন্দির ও শতাধিক বাড়িতে হামলা হয়।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কাজল দত্ত ও নির্মল দত্ত বাদী হয়ে গত ৩১ অক্টোবর (সোমবার) নাসিরনগর থানায় দুটি মামলা করেন। স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তরের উদ্যোগে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নাসিরনগরের নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক আবুল হাশেমকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ।

রোববার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত তিনদিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৩ জনকে।


এমএনজে