তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা নির্বাচনী অফিসে হামলা ভাংচুর, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অবরুদ্ধ, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান এবং ধানের শীষের এজেন্টদের অস্ত্রের মুখে কেন্দ্র থেকে বের করে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট প্রদানের মহোৎসবের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ইউপি নির্বাচন।

অভিযোগ রয়েছে শাসক দলীয় ক্যাডার বাহিনীদের হামলায় বিএনপি সমর্থিত কর্মী সমর্থক ভোটার এবং বিভিন্ন স্থানে আ’লীগ সমর্থিত মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে আতঙ্কে চিকিৎসা নিতে পারেনি। কেন্দ্র জবর দখলসহ নানা অনিয়মের কারনে ৯টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

দুপুরে চাটখিল দলীয় অফিসে বিএনপির প্রার্থীগন ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার সাহাপুর, রামনারায়নপুর, পরকোট, বদলকোট, পাঁচগাও, মোহাম্মদপুর ও নোয়াখলা ইউনিয়নসহ সকল ইউনিয়নের প্রায় সবকটি কেন্দ্র শাষকদলীয় সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী জবর দখল করে নেয় চাটখিল উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে।

এসময় তারা প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিং এজেন্ট, পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগীতায় ধানের শীষ, সতন্ত্র প্রার্থী ও অন্যন্য দলের ইউপি সদস্য প্রার্থীর এজেন্টদের ও ভোটারদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদান করে।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাদের এজেন্টদের বেদম প্রহার করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে ককটেল, বোমা পাটিয়ে ও গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আবার কোন কোন কেন্দ্রে এজেন্টদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাধারন ভোটারদের ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকায় এবং আ’লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যদের ভোট দিতে বাধ্য করে।

এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিক রির্টানিং অফিসার ও নির্বাচন অফিসারকে লিখিত অভিযোগ দিলেও এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশসহ প্রশাসনের সহযোগীতায় কেন্দ্র জবর দখলরে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট প্রদান বিএনপি দলীয় প্রার্থী কর্মী সমর্থক ও এজেন্টদের মারধর এর প্রতিবাদে, ২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বাতিল ও পূনরায় নির্বাচনের দাবী জানান সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীগন। শাহাপুর ইউনিয়নের ফিরোজ আলম বাবলু, রামনায়ারনপুরের লিয়াকত আলী ভুট্রো, পরকোটের মনির হোসেন বাদল, বদল কোটের এডভোকেট আবু হানিফ, মোহাম্মদপুরের আবু সাইদ চৌধুরী, পাঁচগাও এর আলমগীর হোসেন নয়ন, হাটপুকুরিয়ার তাজুল ইসলাম, নোয়াখলার শাহাজাহান রানাসহ দলের বিভিন্ন অংশ সংগঠনের নেতাকর্মীগন উপস্থিত ছিলেন।

এ নিয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, কেন্দ্র জবর দখল করে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদান প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের উপর হামলাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

এআই