চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনে সড়ক ও গলিতে এ্যাম্বুলেন্স পার্কিং বন্ধের কারণে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন ও বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
এর ফলে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা মাইক্রোবাসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রোগী ও লাশ পরিবহন করতে হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ মাইক্রোবাসে লাশ বহন না করায় দুর্ভোগ এড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আব্বার লাশ নিয়ে যেতে হবে গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়ায়। সেই ভোর থেকে অপেক্ষা করে এখনও কোনো গাড়ি ঠিক করতে পারিনি। ছেলে ও ছোট ভাই তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেও কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের অনেক অনুরোধ করেছি। আবার প্রশাসনও এমন অবস্থা শুরু করছে যেন মনে হচ্ছে রাতারাতি চট্টগ্রামকে সৌদি আরব বানিয়ে ফেলবে।’
চট্টগ্রাম এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চমেক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালের এই গলিতে ও সড়কের পাশে এ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করে আসছি আমরা। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করে পুলিশ এসে এ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে ফেলতে বলে। নির্দেশ অনুযায়ী কিছু সরানো হয়েছিল। বাকিগুলো সরানোর আগেই তিনটি গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে গেছে ট্রাফিক পুলিশ। এছাড়া মামলা দেওয়া হয়েছে দুজন চালকের নামে। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রোগী ও লাশ পরিবহন বন্ধ থাকবে।’
সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের (উত্তর) উপকমিশনার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এ্যাম্বুলেন্স চালকরা যেসব জায়গায় গাড়ি পার্কিং করত সেসব আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, এ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করে রাখায় তাদের সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তার ওপর গাড়ি পার্কিং করায় সব সময় যানজট লেগে থাকে। আর এখন নগর পরিষ্কারের অংশ হিসেবে তাদের আগের দিন নোটিশ দেওয়া হয়। বুধবার অভিযান পরিচালনা করে তাদের রাস্তার ওপর থেকে এ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
জেআই





