বাংলাদেশের ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) জালনোট চিহ্নিত করতে ভালভাবে সক্ষম। তারপরও ভারত বাংলাদেশকে জাল নোট চিহ্নিত ও পরীক্ষা করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহী। যাতে উভয় দেশ সম্মিলিত ভাবে জাল নোট চক্রকে প্রতিরোধে সক্ষম হয়।

বিদেশী জালনোট প্রচলন ও প্রবেশ রোধে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত টাস্কফোর্সের যৌথ সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শক মো. মোখলেসুর রহমান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, টাস্কফোর্স গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ডাটাবেজ তৈরি, জাল নোট কিভাবে আসে তা চিহ্নিত করা এবং জাল নোটটি ভালভাবে পরীক্ষা করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এ জালনোট দিয়ে মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসবাদী কাজের অর্থায়ন, মাদক পাচার ব্যবহৃত হয়।

জাল নোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মোখলেসুর রহমান বলেন, আলোচনা শুধু জালনোটে সীমাব্ধ ছিল না। ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র ও ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক, সন্ত্রাসবাদ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অস্ত্র ও ফেনসিডিল পাচারের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করা হয়েছে।

১২ ও ১৩ আগস্ট দু'দিনব্যাপী এ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) আইজি এস কে সিং এর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসেন।

এনআইএ এর আইজি এস কে সিং বলেন, দুদেশ এক সঙ্গে কাজ করলে এ সকল অপরাধীদের প্রতিরোধ করা সম্ভব। দু'দেশের সমন্বয়ে গঠিত এ টাস্কফোর্স নিয়ে আমরা আশাবাদি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) প্রধান এস কে সিং, এনআইএ এর কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা মহানগরে যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম, সিআইডি’র বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল বাকীসহ সিআইডি’র কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের সরকারের সম্মতিক্রমে ফেইক কারেন্সি (জাল টাকা) অপতৎপরতা বন্ধে যৌথ টাস্কফোর্স গঠিত হয়। এই টাস্কফোর্স বছরে দুইবার সম্মেলনে মিলিত হয়। গতবার ভারতে সম্মেলন হয়েছে। এবার বাংলাদেশে হচ্ছে।

এমআর/ এআর