রাজধানীর কমলাপুর টিটিপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় বলাকা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বাস ও ট্রেনের অন্তত ১৫ যাত্রী। গত রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন কমলাপুরে টিটিপাড়া এলাকায় লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি বাস উঠে গেলে এই সংঘর্ষ হয়।
নিহতদের মধ্যে ২ জন ঘটনাস্থলে ও ১জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল আমিন (২০) রাত পৌনে ৪টায় মারা যান।
নিহতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজনের নাম নাজমুস সাবা নাজু (৩০)। তার স্বামী নাম ওবায়দুর রহমান। তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র সাব-এডিটর ও ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের দফতর সম্পাদক ওবায়দুর রহমান জানান, গতকাল মগবাজারের বাসা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে মানিকনগরে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যান। তারা যাওয়ার উদ্দেশে রাত পৌনে ১০টায় সায়েদাবাদ থেকে গাজীপুরগামী বলাকা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। পর্যাপ্ত সিট না থাকায় স্ত্রীকে সামনের সিটে বসিয়ে দিয়ে তিনি বাসের পেছনের সিটে বসেন। পথিমধ্যে কমলাপুর টিটিপাড়া এলাকায় রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের সাথে সংঘর্ষ হয়। ওই বাসে অন্তত ৩০ জন যাত্রী ছিল বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় নাজুর স্বামী ওবায়দুর সামান্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই আহত স্ত্রীকে নিয়ে রওনা হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে স্ত্রীর দেহ নিস্তেজ হয়ে যায়। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে তাদের বিয়ে হয়। তার স্ত্রী দিনাজপুর সরকারি কলেজে অনার্স ২য় বর্ষের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ছাত্রী ছিলেন। আজ তার দিনাজপুরে যাওয়ার কথা ছিল। রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে নিহতের লাশ নিয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাড়িতে রওনা হয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1398824282.jpg[/img]
বাসচালকের গোয়ার্তুমিতেই এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ওবায়দুর রহমান জানান। তিনি হাসপাতালে বলেন, ট্রেনটি লেভের ক্রসিংয়ে এসে পৌঁছলেও বাসচালক দ্রুতগতিতে চালিয়ে যাচ্ছিল। চালক ট্রেনটির আগে ক্রসিং পার হতে চেয়েছে।
অপর নিহত সোহাগ (৩০)। তার বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের কেবরারচর। তিনি রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় চাচা বাচ্চুর বাসায় থাকতেন। তিনি পেশায় একজন থাই গ্লাস ব্যবসায়ী। নিহত অপর ব্যক্তির এখনো নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্রাথমিকভাবে সংবাদ মাধ্যমগুলো নিহতের সংখ্যা বেশি বলে প্রচার করে। এমনকি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ১২ বলেও সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। তবে রেলওয়ে কমলাপুর থানার ওসি ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর ৩ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।
জিআরপি কমলাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ সাংবাদিককদের বলেন, রাত সোয়া ১০ টার দিকে নারায়নগঞ্জ থেকে একটি কমিউটার ট্রেন কমলাপুরে আসছিলো। টিটিপাড়া আসার সময় রেলওয়ের দুই গেটম্যান ব্যারিকেড নামিয়ে দেয়। কিন্তু বলাকা পরিবহণের একটি বাস ব্যারিকেড না মেনে রং সাইড দিয়ে বাসটি রেলক্রসিং পার হতে যাওয়ার কারণে ট্রেনটি বাসে ধাক্কা দেয়। আর এতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1398824608.jpg[/img]
জিআরপি কমলাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৩ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। বাস ও ট্রেনের ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর ৫ জনকে মানিক ইসলামীয়া মেডিকেল ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হবে। বাস চালক ও হেলপার ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে।
এদিকে ঢামেকে আহত অবস্থায় যাদের ভর্তি করা হয়েছে তারা হলেন- মাহফুজুর রহমান (৩০), শাহ আলম (৪৫), জলি আক্তার (২৫), শাহানুর (৫০), ইকবাল (৪৫), নিহত নাজু বেগমের স্বামী ওবায়দুর রহমান (৪২), কালা ব্যাপারি (৫০) ও লিটন (৩৫)।
অন্যদিকে ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা নেমে আসেন। তারা বাসের আহত যাত্রীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যেই রেলওয়ে পুলিশ, শাহাজাহনপুর থানা পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। হতাহতের খবর শুনে আসেন রেলওয়ের কর্মকর্তারাও।
এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ মানুষ, পুলিশ এমনকি রেলওয়ের কর্মকর্তারাও এই দুর্ঘটনার জন্য বাসের চালককেই দায়ী করেছেন। তারপরও রেলওয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করবেন। এই তদন্তে যদি রেলওয়ের কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1398824793.jpg[/img]
প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, ঘটনার সময় তিনি ক্রসিংয়ের পশ্চিম দিকের পাশে ডান দিকের কোনায় এক টোলে বসে কয়েকজন বন্ধু মিলে গল্প করছিলেন। ট্রেন আসার সিগন্যাল দিয়ে গেটম্যানরা ব্যারিকেড দিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সামনে তাকিয়ে দেখি ক্রসিং পার হতে বলাকা পরিবহনের একটি বাস সামনে আসছে। দ্রুত ট্রেন আসছে দেখে বাসটি পেছনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একেবারে শেষ মুহর্তে বাসের চালক পূর্ব দিকের হাতের বাম পাশে এক কোনায় ঢোকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কোন চেষ্টাই তার কাজে আসেনি। দ্রুতবেগে ট্রেনটি এসে বাসকে ধাক্কা দেয়। যার কারণে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। আর এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মজিদ বলেন, রেল আসার সংকেত দিয়ে গার্ডরা ব্যারিকেড নামিয়ে দেয়। এ সময় যানচলাচল বন্ধই ছিল। কিন্তু বলাকা পরিনবহনের বাসটি দ্রুত রং সাইড দিয়ে রেলক্রসিং পার হতে চেয়েছিল। যার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, যদি বাসটি স্বাভাবিক নিয়ম মেনে আসতো তাহলে আর এই দুর্ঘটনা ঘটতো না। নিয়ম না মানার কারণে এই দুর্ঘটনা বলে তিনি মতামত দেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ছুটে আসেন রেলওয়ের ঢাকা রেঞ্জের সহকারী প্রকৌশলী মো. মুসা। তিনিও সাংবাদিকদের কাছে এই দুর্ঘটনার জন্য বাসের চালককে দায়ী করেন। বাসের চালক নিয়ম মানলে এ দুর্ঘটনা হতো না।
এদিকে স্থানীয় লোকজনে দুর্ঘটনার জন্য সম্পূর্ণভাবে বাসের চালককে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, বেপরোয়া বাসই কেড়ে নিয়েছে এই চারটি তাজা প্রাণ। আর আহত করেছে পায় ১৫ জনের মত ট্রেন ও বাসের যাত্রীকে।
[b]ঢাকা, ৩০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি [/b]
জাতীয়
রাজধানীতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১৫
রাজধানীর কমলাপুর টিটিপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় বলাকা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বাস ও ট্রেনের অন্তত ১৫ যাত্রী। গত রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন কমলাপুরে টিটিপাড়া এলাকায় লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি বাস উঠে গেলে এই সংঘর্ষ হয়





