লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দম্পতি সুদের টাকা দিতে না পারায় তাদের মারধরের পর গরু-ছাগল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দাদন ব্যাবসায়ীর বিরুদ্ধে।
শনিবার ভোর রাতে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আহত ওই কৃষক দম্পতি।
আহত কৃষক দম্পতিরা হলেন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চল বারঘড়িয়া গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে বর্গাচাষি আলম বাদশা ও তার স্ত্রী মৌসুমী বেগম।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে কয়েক বার ঘর বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামে বন্দকি জমিতে বসত বাড়ি তৈরী করেন বর্গাচাষি আলম বাদশা।
শুস্ক মৌসুমে তিস্তার চরে জেগে উঠা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে চলে তার সংসার। গেল পিঁয়াজ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ওই বারঘড়িয়া গ্রামের ছেপত উল্লার ছেলে দাদন ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর নিকট ৭ শত টাকা ধার নেন।
বন্যায় টানা ৮ দিন পানিবন্দি থাকায় সেই ধার পরিশোধ করতে পারেননি কৃষক আলম বাদশা। ওই সাত শত টাকা ৮ মাসে সুদে আসলে দুই হাজার সাত শত টাকায় দাঁড়িয়েছে দাদন ব্যবসায়ীর খাতায়।
বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলে শুক্রবার বিকেলে দলবলে ওই কৃষকের বাড়িতে সুদের আদায় করতে যান দাদন ব্যবসায়ী আশরাফ আলী।
বন্যায় সবকিছু নষ্ট হওয়ায় কয়েকটা দিন সময় চাইলে কৃষক আলম বাদশা ও তার স্ত্রী মৌসুমি বেগমকে মারপিট করে তাদের বাড়িতে থাকা বর্গা নেয়া একটি গরু ও একটি ছাগল জোর করে নিয়ে যান দাদন ব্যবসায়ী।
পরে আহত কৃষক দম্পতিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের বেডে আহত অবস্থায় কৃষক আলম বাদশার স্ত্রী মৌসুমি বেগম জানান, পিয়াজ চাষ করতে ৭ শত টাকা ধার নিয়ে ছিলেন। কিন্তু গেল বন্যায় তাদের সবকিছু নষ্ট হওয়ায় অভাবের কারণে টাকা পরিশোধ করতে পারেন নি।
টাকা পরিশোধ করতে কয়েক দিন সময় চাওয়ায় তাদেরকে মারপিট করে বর্গা নেয়া গরু ও ছাগল নিয়ে যায় আশরাফ আলী।
ওই এলাকার ইউপি সদস্য আজহার আলী জানান, গৃহিনী মৌসুমিকে বেদম মারপিট করেছে শুনেছি। গরু ছাগল দুটি বিক্রি না করতে আশরাফ আলী নিষেধ করা হয়েছে।
আদিতমারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্ব থাকা উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার সৌরভ কুমার দত্ত জানান, কৃষক দম্পত্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মৌসুমী বেগম বেশি আঘাত পেয়েছেন। তবে তারা আশংকামুক্ত বলেও জানান তিনি।
আদিতমারী থানার ওসি হরেশ্বর রায় জানান, হাসপাতালেই কৃষক দম্পত্তির কাছে শুনা তাদের অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। কৃষক দম্পত্তিকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সরকার/জেড





