মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে মায়ের পেটেই গুলিবিদ্ধ শিশুটির সঙ্গে অবশেষে দেখা হলো মা নাজমা বেগমের।
গতকাল রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ‘স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটে’ (স্ক্যাবু) নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাকে। সেখানেই সন্তানকে দেখতে পেলেন মা।
তবে এখনই সন্তানকে দুধ খাওয়াতে পারছেন না মা। কারণ দু’জনই অসুস্থ। গুলিবিদ্ধ শিশুটির মধ্যে হঠাৎ জটিলতা দেখা দেওয়ায় গতকালই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। আর রাতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরা থেকে নিয়ে আসা হয় মা নাজমা বেগমকে।
কিন্তু গুলিবিদ্ধ মা’ও খুব বেশি সুস্থ নন। দীর্ঘ ভ্রমনের কারণে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। মেডিকেলে আসার পর দেখা গেলো তার জ্বর এসেছে। ঠিকমত হাঁটাচলাও করতে পারছেন না তিনি।
সন্তানকে দেখার জন্য ধারধরি করেই শিশুটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয় নাজমা বেগমকে। সেখানেই নিজের সন্তানকে প্রথম দেখতে পান তিনি। শিশুটির চাচা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, শিশুকে দেখে মা অঝোর ধারায় কাঁদতে শুরু করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল গফুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘মায়েরও চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শিশুকে মায়ের সঙ্গ ও বুকের দুধ দেওয়া। একজন মা ছাড়া নবজাতক শিশুর জন্য বড় চিকিৎসক আর কেউ নয়।’
মায়ের গর্ভেই শিশুটির অবস্থা এখনও স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। কিছু খেতে পারছে না। শুধু স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেলের শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আশরাফুল হক গতকালই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘শিশুটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। রক্তে সংক্রমনের শঙ্কা তৈরী হয়েছে। তার রক্তে প্লাটিলেট ৫০ হাজারে নেমে এসেছে।
অথচ, স্বাভাবিক মাত্রায় এর পরিমাণ কমপক্ষে দেড় লাখ হওয়ার কথা। তার জন্ডিস হয়ে গেছে। স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। জন্মের পর মায়ের দুধ পেলে এই সংক্রমণ এড়ানো যেত।’
এসএইচ





