গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে হামলা, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ইটপাটকেলে সাত পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুমন (২৬), কনস্টেবল নুরুল আমীন (৫৬), আব্দুস ছাত্তার (৫৭), আব্দুল মান্নান (৫০), আব্দুল কাদের (৫২), আব্দুল বাতেন (৫৫) ও মো. সাফিন (২৬)। মাথায় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত সাফিনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত দুই পক্ষের আটজনকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরনল গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল মালেক ও মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে জসীম উদ্দিন গংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।
সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে জসীম উদ্দিনের লোকজন স্থাপনা নির্মাণ করতে যায়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও জমিতে থাকা মেহগণি গাছ কেটে ফেলা হয়।
আব্দুল মালেক অভিযোগ, জসীম উদ্দিনের ভাড়া করা লোকজন জমি জবর দখল করতে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর তার একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
জসীম উদ্দিন জানান, গত পাঁচ বছর আগে তিনি জমিটুকু মালেকের চাচা মোসলেম উদ্দিনের কাছ থেকে ক্রয় করেন। এরপর থেকে মালেক ও তার সহযোগীরা জমিতে বার বার বাধা প্রদান করে জমি বেদখলের হুমকি দিয়ে আসছে। মালেকের বাড়ির লোকজন রান্না ঘরে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিপক্ষের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
শ্রীপুর থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মারমুখি পরিবেশ প্রতিহত করতে শ্রীপুর থানা থেকে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে একদল লোক ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।
পরে শ্রীপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে ১৫ রাউন্ড রাবারবুলেট ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ ঘটনায় নির্মাণকাজে জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মহর আলীর ছেলে নূর হোসেন (৪৫), আবুল কাশেমের ছেলে মাঈনুদ্দিন (২০), আশ্রাব আলীর ছেলে সুমন (২০), আব্দুল বারেকের ছেলে এমদাদুল হক (৩২), আব্দুল মতিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০), আবুল কাশেমের ছেলে লিটন মিয়া (৪৬), জমির উদ্দিনের ছেলে আলাল উদ্দিন (৩২), রাকা বর্মনের ছেলে পিকুল বর্মন (১৮) এবং আলী ফকিরের ছেলে তাইজুদ্দিন (৩০)।
জেআই





