দূর্যোগ মোকাবেলার স্থানীয়দের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, ঢাকাকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নানামেয়াদী পরিকল্পনাও গ্রহন করেছে ডিএনসিসি।

তিনি আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত Urban Disaster Resilience Index-UDRI এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।

আনিসুল হক প্রতিটি এলাকায় উন্মুক্ত পাবলিক প্লেস রাখার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভূমিকম্প বা অগ্নিকান্ডের মত দুর্যোগে এসব পাবলিক প্লেস নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

মেয়র বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ইতোমধ্যেই ডিএনসিসি এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ৮শ ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় সরকারিভাবে মহানগরীর সব এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি উন্নতমানের এলইডি সড়কবাতি সংযোজনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আগামী বছর মার্চ মাস নাগাদ ঢাকা উত্তরের কোন এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকবে না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিডস এশিয়ার বোর্ড চেয়ারম্যান রাজীব শও, ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম ও ডিএনসিসি’র তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী ড. তারিক-বিন-ইউসুফ।

‘Capacity Building for Community-Based DRR in Urban Areas of Bangladesh’ কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসি’র বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিস্থিতি নিয়ে UDRI (Urban Disaster Resilience Index) নিরূপণ করা হয়। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় এই UDRI নিরূপনের কাজটি করেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২০১৬ সালের UDRI এর গড় মান ২ দশমিক ৫২ যা ২০১০ সালে ছিল ২ দশমিক ৩৫। UDRI এর সর্বোচ্চ মান ৫, তবে এর মান ৪ এর উপরে হলে তা উচ্চমান সম্পন্ন বলে বিবেচিত হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অবকাঠামোগত (মান ৩ দশমিক ৩৭) এবং সামাজিক (মান ২ দশমিক ৫৩) সক্ষমতা বৃদ্ধির সামর্থ ডিএনসিসি’র রয়েছে। অর্থনৈতিক (মান ২ দশমিক ২৩) এবং প্রাকৃতিক (মান ২ দশমিক ৩৭) সক্ষমতার ক্ষেত্রেও ডিএনসিসি’র অবস্থান অনেকটা আশাব্যঞ্জক। তবে প্রাতিষ্ঠানিক (মান ২ দশমিক ১১) সক্ষমতা অর্জনে এখনও অনেক কাজ করতে হবে।

জারিফ