রেলপথ যাত্রা আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। সরকার সারাদেশে রেলপথ যোগাযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যর বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিম বলেছেন, মন্ত্রী বলেছেন, রেল আরামদায়ক। কিন্তু আমি দেখি না। রেলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলেই বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ চলছে।

সবই যদি প্রধানমন্ত্রী করেন, তাহলে মন্ত্রীরা কী করেন?

রোববার সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরকালে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম সম্পূরক প্রশ্নে এ সব কথা বলেন।

রেলের দুর্ঘটনা নিয়ে হাজী সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দিন পর পর রেল দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি, নারায়ণগঞ্জের একটি দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে অবৈধ রেলক্রসিংয়ের কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কয়েকজনের। এভাবে রেলের জায়গা দখল করে বাজার দোকানপাট করা হয়েছে। মন্ত্রী দায়িত্বে থেকে কী করছেন?

এর জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, রেলের ভূমি অবৈধ দখলে আছে কথা সত্যি। তবে ভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হচ্ছে। আশা করা যায়, এক সময় শতভাগ অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। নারায়ণগঞ্জের রেল দুর্ঘটনা অবৈধ রেলক্রসিংয়ের কারণে হয়েছে। একটি অবৈধ রেলক্রসিং দিয়ে একটি পরিবহন পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অবৈধ রেলক্রসিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় মন্ত্রণালয়ের নয়। তারপরেও একজন মানুষ মারা যাওয়াটাও আমাদের কাম্য নয়। এর জন্য দুঃখিত।

তিনি বলেন, রেলক্রসিং নির্মাণ করার জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এতে পূবাঞ্চলের জন্য ৩২৬টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ৩৪৬টি রেলক্রসিং নির্মাণ করা হবে। এ সব রেলক্রসিং নির্মাণ করা হলে দুর্ঘটনা কমবে।  

নাজমুল হক প্রধানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, লেওয়ের এক ইঞ্চি জায়গাও কোনো ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি; যা বিএনপির আমলে হয়েছে। 

তিনি বলেন, রেলের অনেক ভূমি অবৈধ  দখলে রয়েছে। এসব ভূমি উদ্ধারে কাজ চলছে।
 
মন্ত্রী বলেন, ঠিক কী পরিমাণ ভূমি ব্যক্তি-মালিকানায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে দিতে পারছি না। তবে নোটিস পেলে জানাবো।
 
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ব্যক্তিপর্যায়ে ভূমি বরাদ্দ না দিলেও সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য নামমাত্র মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এএইচ