উজান থেকে পানি নেমে যাওয়ার দু’সপ্তাহ পার হতেই বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলা তৃতীয় দফায় বন্যাকবিলত হয়ে পড়েছে। নতুন করে আকম্মিক এ বন্যায় উপজেলার ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে অর্ধ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

গত দু’দিনে যমুনার পানি বেড়েছে ১০০ সেন্টিমিটারের ওপর। এছাড়া যমুনার পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে শুরু হওয়া বন্যায় বানভাসিরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তারা আবার আশ্রয় নিচ্ছেন উচুঁ রাস্তা ও বাঁধের ওপর।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উজান থেকে আসা ঢল ও একটানা ভারী বৃষ্টিপাতে দু’দিনে হঠাৎ করে যমুনার পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বুধবার যমুনার পানি বিপদসীমার তিন সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

গত দু’দিন ধরে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার চন্দনবাইশা ও কামালপুর ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। এছাড়া কুতুবপুর, কর্নিবাড়ী ও ভেলাবাড়ীসহ চরবেষ্টিত চারটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কামালপুরের রৌহদহ বাজার এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি পাকা স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া নিজচন্দনবাইশা এলাকাতেও তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

নতুন করে বন্যা শুরুর পর বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি বলে বন্যার্তরা অভিযোগ করেছেন।

যমুনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাঙ্গালী নদীর পানি। এতে বাঙ্গালী নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দি ছাড়াও পাশের ধুনট উপজেলার চিকাশি, কালেরপাড়া, গোসাইবাড়ী ও ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সারিয়াকান্দি যমুনা গ্রেজ রিডার পশুরাম বর্মণ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে যমুনা নদীতে বৃহস্পতিবার সকালে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রত্যয় হাসান জানান, নতুন করে দেখা দেয়া বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এ পর্যন্ত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম ,জেআই