নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর গ্রামের স্বামী আনোয়ারুল আজিম নয়ন (৩৫)’র জিহ্বা কেটে সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্লেড দিয়ে কেটে গুরুতর আহত করেছে নববধু স্ত্রী।

আনোয়ারুল আজিমের নববধু স্ত্রী রুনা আক্তার সাথী (১৯) এর পরকীয়া প্রেমে বাধার জের হিসেবে ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

আনোয়ারুল আজিমকে গুরুতর অবস্থায় গত সোমবার রাতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চৌমুহনীর ব্যবসায়ী আনোয়ারুল আজিম করিমপুর গ্রামের মৃত এমএ লতিফ কোব্বাদের ছেলে।

রুনা আক্তার সাথী একই উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিন অবিরামপুর গ্রামের রুস্তম আলীর মেয়ে। এলাকাবাসী জানান, ওই গ্রামের মৃত এমএ লতিফ কোব্বাদের ছেলে ও চৌমুহনী বানিজ্য কেন্দ্রের ব্যবসায়ী আনোয়ারুল আজিমের সাথে গত ২ ফেব্রুয়ারী সামাজিকভাবে রুস্তম আলীর মেয়ে রুনা আক্তার সাথীর বিয়ে হয়েছে।

রুনা আক্তার সাথী ও স্থানীয় বখাটে ছেলের সাথে বিয়ের আগ থেকে পরকীয়া প্রেম থাকলেও তার পিতা ও মাতা এ ব্যাপারটি জানার পরও অজ্ঞাতে রাখে। বিয়ের আগে বর-কনের বাড়িতে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক  হলেও কনের পিতা ও মাতা মেয়ের পরকীয়া প্রেমের ঘটনাটি অজ্ঞাত রাখেন।

বৈঠকের পরও কনের সাথে বরের বিয়ের চুড়ান্ত পর্যায় কনের সম্মতি নিয়েই ওই দিন ব্যবসায়ী আনোয়ারুল আজিমের সাথে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর আনোয়ারুল আজিম তার স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গত রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রী বাসর রাতে যায়।

এক পর্যায়ে কনে অন্য ছেলের সাথে পরকীয়া প্রেমের ব্যাপারটি তার নব বিবাহিত স্বামীকে জানায়। স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দিয়ে দুজনেই ঘুমিয়ে যায়। স্ত্রী কৌশলে স্বামীর জিহ্বা বের করে ধারালো ব্লেড দিয়ে অর্ধেক কেটে শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত বিক্ষত করে আহত করছে।

আহতের চিৎকারে পাশের ঘরের ঘুম থেকে জেগে তার মা, ভাই, ভাবী ছুটে আসা টের পেয়ে নববধু রুনা আক্তার সাথী ঘর  থেকে বের হয়ে পালিয়ে গেলে আনোয়ারুল আজিম নয়নকে রক্তাক্ত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একটি প্রভাবশালী মহল রুনা আক্তার সাথীর পক্ষে তদবীর করে মামলা ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। আহত নয়নের ভাই বাঘ মানিক যুগান্তরকে জানান, রুনার বিয়ের আগে রুনার পরকীয়া প্রেমের ব্যাপারটি তার পিতা মাতা সহ লোকজন গোপন রেখে আমার ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয়।

বাসর রাতে রুনার পরকীয় প্রেমের ব্যাপারটি আমার ভাই বাধা দিলে দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রুনা ক্ষিপ্ত হয়ে কৌশল নিয়ে আমার ভাই নয়নের জিহ্বা ব্লেড দিয়ে কেটে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত করেছে।

থানায় মামলা করতে চেষ্টা করলে রুনার লোকজন আমাকে মোবাইলে প্রান নাশের হুমকি দেওয়ায় এখনও মামলা করিনি। 

এদিকে বেগমগঞ্জ থানার ওসি আইনুল হক জানান, এ ধরনের ঘটনা জেনেছি। এখনও থানায় মামলা হয় নি। মামলা হলে অবশ্যই রুনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএইচ