সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের চিত্র তুলনামূলকভাবে বাড়লেও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়েনি। আর এজন্য ছয় ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা দায়ী।
‘সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে নারীর টেকসই অংশগ্রহণ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে সম্মেলনটির আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উন্নয়ন সহযোগী টিম’ (ইউএসটি)।
আয়োজক সংগঠনের এক গষেষণাপত্রে ও সম্মেলনে উঠে আসা ছয় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে- নারীর অংশগ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরিবারের সমর্থনের অভাব এবং নিষেধ; নারী নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক অনীহা; পরিবারের পুরুষ সদস্যের ওপর নির্ভরতা বা নারীদের চলাচলের ওপর বাধা নিষেধ আরোপ; অর্থনৈতিক সম্পদের অভাব, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চার অভাব।
এসব বাধাকে স্বীকার করে নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম বলেন, নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দুস্থদের জন্য সাহায্য প্রদান, শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, ক্ষমতায়নের জন্য।
তিনি বলেন, বিভিন্ন বড় বড় শহরে হোস্টেল করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে জয়ী নারীদের যাদের ‘জয়িতা’ বলা হয়, তাদের আমরা সংবর্ধনা দিয়েছিলাম। এবারও তৃণমূল থেকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নারীর উন্নয়নের বাধার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে যৌন হয়রানি। তবে এক্ষেত্রে নারীদের সহায়তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
সচিব বলেন, আমরা চাই, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন। তাই শুধু সরকার নয়, এনজিও থেকে শুরু করে নারী উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে হবে।
দাতা সংস্থা পিওয়াইডি’র কান্ট্রি প্রতিনিধি এস্তেফানিয়া ভিলারডেবো বলেন, এখনই সময় কাজ করার। আমাদের এক ব্যানারের নিচে এসে কাজ করতে হবে। এটা কঠিন। তারপরও তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ নারী ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই, সরকারের সঙ্গে লবিং তৈরি করে কাজ এগিয়ে নিলেই নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা পাবে।
নীলফামারী থেকে আগত স্থানীয় পর্যায়ের নারী নেত্রী রাহিমা খাতুন বলেন, এদেশে নাকি নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে! কিন্তু একটি নারিকেল বাগানে ১০টি সুপারি গাছ থাকলেই কি তা সুপারি বাগান হয়! তেমনি এই পুরুষ শাসিত সমাজে কয়েকজন নারীকে বিভিন্ন পদে বসালেই কি নারীর ক্ষমতায়ন হয়!
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার নারী। কিন্তু, এদেশে নারীরা কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে! পারে না।
সম্মেলনের শুরুতে গবেষণাপত্র পাঠ করেন- ইউএসটির টেকনিক্যাল উপদেষ্টা এসএম তাজাম্মল হক।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক, স্পেন অ্যাম্বাসির প্রতিনিধি রেমোনাল রিডলফি, ইউএসটি’র টেকনিক্যাল কর্মকর্তা এহশান বাবুসহ স্থানীয় সরকারের সাবেক ও বর্তমান প্রতিনিধিবৃন্দ।
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,এএইচ





