রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেতের ৭ বছরের ছেলে তাজমিন তার বাবার খোঁজ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলে আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন, আমার বাবা আমাকে অনেক আদর করতো আজ অনেকদিন ধরে আমাকে আর আদর করেনা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তাজমিন এসব কথা বলে।

সংবাদ সম্মেলনে মিঠাপুকুর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মারজানের স্ত্রী রোকেয়া খানম লুকি বলেন, ৩১ জানুয়ারি আমার স্বামী মিঠাপুকুর উপজেলার নির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব আবদুল বাসেত মারজান উপজেলা পরিষদের কাজে ঢাকায় আসেন। তিনি মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে আমাদের এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। ১ লা ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে সাদা পোশাকধারী ডিবি পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমার স্বামীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর ৫ দিন অতিবাহিত হচ্ছে তাকে এখনো কোন আদালতে সোপর্দ করা হয়নি এবং পরিবারের কাছেও ফেরৎ দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা এ ঘটনার পর পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেছি কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনা অবহিত করে রংপুরে ১ লা ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আমরা সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছি কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমরা ঢাকায় এ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি।

রোকাইয়া খানম লুকি আরো বলেন, ১৪ জানুয়ারি মিঠাপুকুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা হামলায় ৪ জন লোক নিহত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিঠাপুকুর উপজেলায় যৌথবাহিনী সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও গণহারে গ্রেফতার অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিটলি গ্রাম থেকে গত ১৫ জানুয়ারি প্রকাশ্য দিবালোকে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে যৌথবাহিনী আল-আমিনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার স্ত্রী বিউটি বেগম ও প্রতিবেশী মৌসুমী জনাব আল-আমিনকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে তাকে না ছেড়ে বরং তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে র‌্যাব অফিসে নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন, র‌্যাব অফিসে আনার পর আল-আমিনকে গুলি করা হয় এবং তার হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়। এই ঘটনার পর প্রায় ২২ দিন অতিবাহিত হচ্ছে, অথচ তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়নি এবং পরিবারের কাছেও ফেরৎ দেয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মারজান, অলা-আমিন, বিউটি বেগম ও মৌসুমী বেগম সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন তাহলে তাদের বিচারের জন্য আদালত আছে। তারা কোনো অন্যায় করলে আমরা যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছি কিন্তু বিনা-বিচারে দিনের পর দিন তাদেরকে আটকিয়ে রাখা সম্পূর্ণ অন্যায়, অমানবিক ও মানবাধিকার পরিপন্থী। আমাদের পরিবারের মাঝে সর্বদা অশান্তি, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আমার শিশু সন্তানগণ তাদের আব্বার জন্য এবং আল-আমিন ও বিউটি বেগমের সন্তানগণ তাদের বাবা-মায়ের জন্য সর্বদা কান্না-কাটি করছে। তাদের খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ।

তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান গ্রেফতারকৃত আবদুল বাসেত মারজান, মিঠাপুকুর উপজেলার অতিপরিচিত মুখ আল-আমিন ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম এবং মৌসুমী বেগমকে অবিলম্বে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জনাব আবদুল বাসেত মারজানের পিতা, মিঠাপুকুর উপজেলার অতিপরিচিত মুখ আল-আমিন ও তার স্ত্রী বিউটি বেগমের দু’সন্তান রায়য়ান (৫), আলপনা (৩) এবং আল-আমিনের বৃদ্ধ পিতাসহ পরিবারের সদস্যবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এআই/কেএইচ