রাজধানীর গুলশান ট্রাজেডির পর থেকে ক্রেতা সংকটে পড়েছে গুলশানের নামী-দামী ফাইভ স্টার হোটেল থেকে শুরু করে থাই-চাইনিজ রেস্তোঁরা, ফাস্ট ফুড ও ক্যাফেগুলো। ঈদে রেস্তোঁরাগুলো জমজমাট থাকলেও আর্টিজান বেকারীতে হত্যাকান্ডের পর এখনো অনেকটা অলস সময় পার করছে হোটেল ও রেস্তোঁরার কর্মচারীরা।
হোটেল রেস্তোঁরাগুলোর এই ক্রেতা সংকটের কারণগুলো হল, গুলশান হত্যাকান্ডের পর থেকে ভয়ে বিদেশীরা গুলশানের হোটেলগুলোতে না উঠে ঢাকার অন্যত্র হোটেলগুলোতে উঠা, চাইনিজ, ফাস্ট ফুড, ক্যাফেগুলোতে বিদেশীদের খেতে না আসা, সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তা জোরদারের কারণে হোটেলগুলোর রেস্তাঁরাতে বাইরের ক্রেতাদের জন্য সার্ভিস বন্ধ রাখা এবং গুলাশানের বাইরের ক্রেতারা নিরাপত্তার কারণে গুলশানের রেস্তাঁরাগুলোতে খেতে না আসা।
গুলশানের রেস্তোঁরা ঘুরে দেখা গেছে, কেএফসি-পিৎজা হার্টের মতো জমজমাট ক্যাফেগুলো থেকে শুরু করে থাই এবং চাইনিজ রেস্তোঁরা, বড় বড় ফাস্ট ফুডগুলোতে ক্রেতা সংখ্যা খুবই কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাতের বেলা ক্যাফেগুলো জমে উঠলেও আর্টিজান বেকারীর হামলার পর থেকে গুলশানের বাসিন্দারা রাতের বেলা বেশি প্রয়োজন না থাকলে বের হোন না আর খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে যে রেস্তোঁরাকে বেশি নিরাপদ মনে করছেন ক্রেতারা সেখানেই যাচ্ছেন।
কাউছার নামে একটি রেস্তোঁরার কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রেস্তোঁরাগুলো মূলত সন্ধ্যার পর থেকে জমে উঠে কিন্তু আর্টিজান বেকারীতে হত্যাকান্ডের পর থেকে নিরাপত্তার কারণে গুলশানের বাসিন্দারা রাতে কম বের হোন আর অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের বের হতে দেন না, তাই আমাদের ক্রেতার সংখ্যায় কমে গেছে। আর বিদেশী ক্রেতারা তো এখন আসেন না বললেই চলে। এছাড়া অনেক ক্রেতাই এখন রেস্তোঁরাতে না এসে বাড়ির ড্রাইভার বা অন্য কাউকে দিয়ে রেস্তোঁতায় পাঠিয়ে খাবার পার্সেল করে নিয়ে যান।
একটি থাই রেস্তোঁরার কর্মচারী মাহবুব হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গুলশানের বাইরে থেকে অনেকে বন্ধু-বান্ধব মিলে খেতে আসতেন কিন্তু আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিরাপত্তার কারণে গুলশানের বাইরের ক্রেতারা এখন গুলশানে না এসে বাইরের রেস্তোঁরায় খেতে যান। তাই আমাদের বেশির ভাগ রেস্তোঁরা কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছে।
ইআর/এমই





