বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তকে ভুলভ্রান্তির ঘটনায় এবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আর্টিস্ট কাম ডিজাইনার সুজাউল আবেদীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এনসিটিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সুজাউল আবেদীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাঁকে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে এ ঘটনায় এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক প্রীতিশ কুমার সরকার ও ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ লানা হুমায়রা খানকে শাস্তিমূলক ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি নির্ণয় ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সুপারিশ দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকায় এবং বর্ণ শেখাতে অসংলগ্ন উদাহরণ দেওয়ায় বিতর্কের মুখে পড়েছে এনসিটিবি। কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক থেকে আলোচিত কিছু গল্প-কবিতা বাদ দেওয়ায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে।

প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এর ১১ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি ছাগল গাছ থেকে আম খাচ্ছে। আবার তৃতীয় শ্রেণির একটি বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে DO NOT HEART ANYBODY। এখানে আঘাত বোঝাতে চাইলেও বানানটি ভুল হয়েছে। আবার প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ‘ও’ বর্ণ শেখাতে ওড়নার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক ভুল ধরা পড়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন আজাদের ‘বই’ কবিতাসহ আলোচিত কিছু গল্প-কবিতা। বাদ পড়া বিষয়গুলো একটি বিশেষ মহলের দাবির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মিলে যাওয়ায় বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

এ নিয়ে আজ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পাঠ্যবইয়ে ভুলভ্রান্তি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, মানুষের ভুলত্রুটি হতেই পারে। তবে কিছু ভুল হওয়া উচিত ছিল না। এই ভুলের জন্য বিচার হওয়া উচিত। যাঁরা ভুল করেছেন, তাঁরা রেহাই পাওয়ার যোগ্য নন।

জারিফ